দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পানীয় জলের সঙ্কট নিরসনে নতুন জল প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নির্মাণ এবং বর্ষার আগে নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলারদুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে পাঁচ জেলার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানান তিনি। বৈঠকে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মূলত পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং অবৈধ দখলদারির মতো বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয় উঠে আসে। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই দুর্গাপুরের জন্য নতুন জল প্রকল্পের দাবি জানান। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'নতুন জল প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হচ্ছে পুরসভাগুলিকে। দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।'
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র শহরের জল জমা ও বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বর্ষার আগে নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, 'বিধায়কদের দাঁড়িয়ে থেকে নর্দমা পরিষ্কারের কাজ তদারকি করতে হবে, যাতে বর্ষায় জল জমার সমস্যা না হয়।'
ডেঙ্গি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেন তিনি। পাশাপাশি বর্ষাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুতের খুঁটিগুলির পরিদর্শনের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান। গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের অভাবে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকার অভিযোগ তুলে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, 'সমস্ত জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরির উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতে।'
সিটি সেন্টারে ঝাঁটা হাতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি
নতুন সরকারের আমলে বিভিন্ন পুর এলাকায় চলমান একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে থাকার অভিযোগও ওঠে। এ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকার প্রকল্পগুলির কাজ পরিদর্শনের জন্য এক বা দু'জন আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা নিয়ম মেনে কাজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে বরাদ্দ ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ১ কোটি টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে পৃথক কমিটি গঠন করে তদন্ত ও পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

