দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: রাজ্যজুড়ে নতুন সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে পদত্যাগের প্রবণতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পর এবারপশ্চিম বর্ধমানজেলা সভাপতির পদ থেকেও সরে দাঁড়ালেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রবীণ তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
সম্প্রতি দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নতুন জেলা সভাপতিদের তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব ফের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
চিঠিতে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজের নাম ঘোষণার বিষয়টি জানতে পারেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সেই কারণেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণার পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রদীপ সরকার। এরপর পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতির পদ ছাড়েন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গেই বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন আসানসোলের ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক। জেলার একাধিক প্রাক্তন বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর। এভাবে একের পর এক পদত্যাগ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে গেলেন এই উপপ্রধান!
নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন এবং সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। নতুন জেলা কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতাকেই পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, 'নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পদত্যাগ করুন, আর যাই করুন, উনি পাপমুক্ত হবেন না। যত দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সব তদন্ত হবে।'

