দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পিলারের গায়ে চওড়া ফাটল। কোথাও আবার খসে পড়ছে কংক্রিটের চাঙড়। আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়—যদি হঠাৎ ভেঙে পড়ে মাথার উপর! পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীনগরপল্লী এলাকার একাংশের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে বিশাল জলাধার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর আগে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আবাসনের একেবারে লাগোয়া এই ওভারহেড জলাধারের নির্মাণ শুরু হয়। সেই সময় থেকেই তাঁরা অনুরোধ করেছিলেন, জনবসতির এত কাছে নয়, খোলা জায়গায় জলাধারটি নির্মাণ করা হোক। কিন্তু সেই আপত্তি গুরুত্ব পায়নি। পরে সরকার বদলালেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলেও, বাসিন্দাদের দাবি, দায়সারা কাজ হয়েছিল। এমনকি প্লাস্টারও করা হয়নি। কংক্রিটের উপরেই রং করে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে জলাধারের বিপজ্জনক অবস্থা। উপর থেকে ভেঙে পড়ছে চাঙড়। পিলারে ফাটল ধরেছে। সামান্য হেলেও পড়েছে বিশাল ওই জলাধার। স্থানীয় বাসিন্দা ধীরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, 'আমাদের বাড়ির লাগোয়া জলাধারটি। একদিকে হেলে রয়েছে। ওভারলোড হলে জল পড়ে আমাদের ছাদে। যে কোনও সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিয়মিত চাঙড় খসে পড়ছে। পুরসভায় একাধিকবার জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।' একই কথা জানিয়েছেন ধীরেনবাবুর মেয়ে পূজা গঙ্গোপাধ্যায়-ও। তিনি বলেন, 'যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমরা আতঙ্কে রয়েছি।'
আরও এক বাসিন্দা অনুপ দাসের দাবি, 'মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে এই জলাধার আর রাখা উচিত নয়। অবিলম্বে এটি সরিয়ে ফেলা বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।' এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎ করের অভিযোগ, 'স্থানীয় মানুষ প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন শাসকদল সেই কথা শোনেনি। তৃণমূলের নেতারা কাটমানি খেয়ে নিয়েছিলেন।'
মুখ্যমন্ত্রীর নামে আপত্তিকর 'পোস্ট'! দুর্গাপুরে গ্রেফতার যুবক
দুর্গাপুরে কারখানার গেটে আন্দোলন তুলতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি
দুর্গাপুরে অটোচালকদের সতর্ক করল ট্রাফিক পুলিশ, নিয়ম ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা
শ্রীনগরপল্লীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিন এই জলাধারের নীচ দিয়ে চলাচল করা বা আশপাশের বাড়িতে বসবাস করা মানুষজনের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার তাঁদের সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে জলাধারের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

