দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে মানবিকতার এক উজ্জ্বল নজির গড়ে তুললেন ডাঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (BCREC) ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা। মানুষের প্রয়োজনে রক্তের সংকট মেটাতে এগিয়ে এসে স্বেচ্ছায় রক্তদান করলেন ৫২ জন। মঙ্গলবার কলেজের এনএসএস (NSS) সেলের উদ্যোগে এবং দ্য মিশন হসপিটাল, দুর্গাপুরের সহযোগিতায় কলেজ ক্যাম্পাসে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।
কলেজের 'রিক্রিয়েশন পয়েন্ট'-এ আয়োজিত এই শিবিরে সকাল থেকেই উৎসাহের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অন্যান্য কর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এই সামাজিক উদ্যোগে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজ সোসাইটির সদস্য জয়িত্রী শিকদার ঘোষ, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ সঞ্জয় এস. পাওয়ার, সহকারী অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ কে. এম. হোসেন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডঃ জি. এস. পান্ডা এবং দ্য মিশন হসপিটাল, দুর্গাপুরের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের পরামর্শদাতা ডাঃ ইপ্সিতা নাগ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র রক্ত সংগ্রহ নয়, সমাজে রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে এই মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করাও ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য যে অনেকটাই সফল হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ থেকেই তা স্পষ্ট।
শিবিরে মোট ৫২ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ সঞ্জয় এস. পাওয়ার বলেন, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই ধরনের উদ্যোগের সাফল্য আসে। রক্তদাতাদের এই নিঃস্বার্থ অবদান বহু মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাতে পারে।
অন্যদিকে, ডঃ ইপ্সিতা নাগ রক্তদাতাদের প্রশংসা করে বলেন, একজন রক্তদাতার এক ইউনিট রক্ত একাধিক মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। তাই স্বেচ্ছায় রক্তদান শুধু একটি সামাজিক কর্তব্য নয়, এটি মানবতার সেবায় এক অনন্য অবদান।
স্বপ্নপূরণের নতুন পথে পা- 'শুভমস্তু ২০২৬'; ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকে অনন্য আয়োজন
একদিকে প্রযুক্তি ও শিক্ষার উৎকর্ষ, অন্যদিকে সামাজিক দায়িত্ব পালনের বার্তা— দুইয়ের সুন্দর সমন্বয় দেখা গেল ডঃ বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এই উদ্যোগে। রক্তদানের মতো মহৎ কর্মসূচির মাধ্যমে কলেজের তরুণ প্রজন্ম যে সমাজের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন, সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

