দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: বাড়ির দরজায় এসে নিজেদের পরিচয় দিয়েছিল বাসনপত্র পরিষ্কার করার কর্মী হিসেবে। কথাবার্তায় ভদ্র, কাজে দক্ষ বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত কাল হল। সোনার গয়না পরিষ্কার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার গয়না হাতিয়ে চম্পট দিল দুই যুবক।
শনিবার দুপুরে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের মাতঙ্গিনী হাজরা বীথির একটি বাড়িতে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রতারণার শিকার হয়েছেন গৃহকর্ত্রী কবিতা চৌধুরী।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই যুবক বাড়িতে এসে দাবি করে তারা বিশেষ পদ্ধতিতে তামা ও কাঁসার বাসন চকচকে করে দিতে পারে। প্রথমে কয়েকটি বাসন পরিষ্কার করে দেখায় তারা। কাজ দেখে সন্তুষ্ট হন কবিতা দেবী। এরপরই তারা জানায়, সোনা ও রুপোর গয়নাও নতুনের মতো ঝকঝকে করে দেওয়া সম্ভব।
বিশ্বাস করে নিজের গলার হার, হাতের দুটি বালা এবং তিনটি আংটি তাদের হাতে তুলে দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর যুবকরা গয়নাগুলি কাগজে মুড়ে ফেরত দিয়ে বলে, রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে কয়েক মিনিট সময় লাগবে, তাই পরে খুলতে হবে।
কিন্তু কথায় সন্দেহ হওয়ায় বেশি দেরি করেননি কবিতা দেবী। যুবকরা চলে যাওয়ার পরই তিনি কাগজ খুলে দেখেন, তাঁর আসল গয়নাগুলির বদলে রাখা হয়েছে নকল অলংকার। মুহূর্তের মধ্যে বুঝতে পারেন, সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন তিনি।
ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে লাগাতার নির্যাতন! দুর্গাপুরে গ্রেফতার সিভিক ভলান্টিয়ার
এরপরই পরিবারের সদস্যদের জানান এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটেজে দুই সন্দেহভাজন যুবকের ছবি ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে একই কায়দায় প্রতারণা করে থাকতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অচেনা ব্যক্তির হাতে সোনা বা মূল্যবান সামগ্রী তুলে না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
এক মুহূর্তের বিশ্বাস যে এত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে কবিতা দেবীকে। আর এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, অপরিচিত কারও মিষ্টি কথায় ভরসা করার আগে সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

