বিশ্বের সবচেয়ে জনাকীর্ণ কারাগার আছে এমন ১০ দেশের তালিকায় ফিলিপাইন্স, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া আছে। ঐ তালিকায় ইন্দোনেশিয়া আছে ২২ নম্বরে।গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার এক কারাগারে আগুন লেগে ঘুমিয়ে থাকা ৪১ কয়েদির মৃত্যুর ঘটনায় ঐ অঞ্চলের কারাগারগুলোর দুর্দশার বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার ঐ কারাগারে দুই হাজারের বেশি কয়েদি ছিল।
দেশটিতে কেউ মাদক বিক্রির পরিকল্পনা করছে, এমন অনুমানের ভিত্তিতে মানুষজনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয় বলেও জানান তিনি। ব্যাংককের এক কারাগারে সাত মাস কাটিয়ে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একজন ডয়চে ভেলেকে জানান, তিনি যেখানে ছিলেন সেখানে ৮০ থেকে ১০০ জন বন্দির জন্য মাত্র একটি টয়লেট ছিল। জায়গা না থাকায় বন্দিদের সেখানে গাদাগাদি করে ঘুমাতে হয়েছে। থাইল্যান্ডের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ কারেকশন্সের' হিসেবে সে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুনেরও বেশি বন্দি রয়েছে।
ফিলিপাইন্সের ‘ব্যুরো অফ জেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনোলজি'র হিসেবে দেশটির ৪৭০টি জেলের মধ্যে ৩৫৬টি জনাকীর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফিলিপাইন্সের গবেষক ব়্যাচেল চোয়া-হাওয়ার্ড কুউজোন সিটি কারাগারের উদাহরণ দিয়ে বলেন সেখানকার বন্দিদের পালা করে সিঁড়িতে ঘুমাতে দেখা গেছে। এমনকি খোলা আকাশের নীচে বাস্কেটবল মাঠেও বন্দিরা ঘুমিয়ে থাকেন। চোয়া-হাওয়ার্ড ডয়চে ভেলেকে জানান, করোনা মহামারির প্রথম ১২ মাসে কোয়ারান্টিন নিয়ম না মানায় ফিলিপাইন্সে এক লাখের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত এপ্রিলে সরকার আর কোয়ারান্টিন নিয়ম ভঙ্গকারীদের গ্রেপ্তার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ফিলিপাইন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সে কারণেও কারাগারে বন্দির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এসব বন্দিদের অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অসহিংস মাদক সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বলে জানান তিনি।
ইন্দোনেশিয়াতেও মাদকসেবীদের পুনর্বাসন না করে কারাগারে পাঠানোয় দেশটির জেলগুলোতে বন্দির সংখ্যা অনেক বেশি। থাইল্যান্ড ইনস্টিটিউট অফ জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক ফিসেট জানান, গত আগস্টে দেশটির সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। এতে মাদক সেবন প্রতিরোধ ও মাদকসেবীদের চিকিত্সার উপর জোর দেয়া হয়েছে। অনিয়মিত মাদকসেবীদের শাস্তিও কমানো হয়েছে। এমি সাসিপর্নকার্ন/জেডএইচ

