প্রেসিডেন্ট হত্যায় প্রধানমন্ত্রীও জড়িত- এমন ধারণা হওয়ায় হাইতির প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাতেই তিনি চাকরিছাড়া। অভিযোগের আঙুল যার দিকে, সেই প্রধানমন্ত্রীই 'আনন্দের সঙ্গে' জানিয়েছেন সেই খবর।গত ৭ জুলাই নিজের বাসভবনে নিহত হন হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজে।
সত্যানুসন্ধানে নেমে মনে হয়েছিল খোদ প্রধানমন্ত্রীও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন আর তাতেই বাধে বিপত্তি। মঙ্গলবার এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল হেনরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রসিকিউটর। বিচারক গ্যারি ওরেলিয়েনকে তিনি লিখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমনটি মনে করার মতো যথেষ্ট আলামত তার কাছে রয়েছে। তিনি জানান, রেকর্ড করা ফোন কল বলছে, প্রেসিডেন্ট নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মূল সন্দেহভাজনদের এক জনের সঙ্গে দুবার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথমবার ৭ জুলাই ভোর চারটা তিন মিনিটে আর দ্বিতীয়বার চারটা ২০ মিনিটে। এ মুহূর্তে পলাতক জোসেফ বাডিও নামের সেই সন্দেহভাজন প্রেসিডেন্টের বাসার খুব কাছেই ছিলেন। এর একটু পরেই একদল লোক প্রেসিডেন্টকে বাসায় ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। মূল সন্দেহভাজনদের এক জনের সঙ্গে কথোপকথনের কারণ অন্বেষণের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার আগে প্রধাহনমন্ত্রীর হাইতির বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও সুপারিশ করেছিলেন প্রসিকিউটর।
কিন্তু হাইতির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের অনুমতি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না। দেশে এখন কোনো প্রেসিডেন্ট নেই, তাই সাংবিধানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করাও সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতির ‘সুবিধা' নিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রী আরিয়েল হেনরি উল্টে প্রসিকিউটরকেই বরখাস্ত করে দেন। এক চিঠিতে বেড-ফোর্ড ক্লাউডেকে তিনি লিখেছেন, ‘‘আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আপনাকে আপনার (প্রসিকিউটরের) পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।'' এদিকে প্রসিকিউটরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইতির বিচার মন্ত্রী রকফেলার ভিনসেন্ট। মন্ত্রণালয় মনে করে প্রসিকিউটরের জীবন এখন ঝুঁকির মুখে, কারণ, গত পাঁচ দিনে তাকে নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে। এসিবি/কেএম (এপি, এএফপি, রয়টার্স, ইএফই)

