Spread the love
Air India: বুধবার আন্তর্জাতিক উড়ানে মাঝ আকাশে দিল্লি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার পথে এক মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে আকাশে চক্কর কাটার পর বিমানটিকে রুট বদলে ফের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন পাইলট।
জানা গেছে, এটি সেই একই বিমান, যা যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে নাগপুরের বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহোল (এমআরও) কেন্দ্রে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
'গোয়া' নামাঙ্কিত এবং ভিটি-এএলএল রেজিস্ট্রেশন নম্বরযুক্ত এই বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'এয়ার ইন্ডিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড'-এর নাগপুর এমআরও কেন্দ্রে এসেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যেই বিমানটির ছাড়পত্র পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জরুরি মেরামতের প্রয়োজনে এই বিমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে অন্য বিমানে ব্যবহার করা শুরু হয়। ফলে নতুন যন্ত্রাংশের অভাবে বিমানটিকে অর্ধ দশকেরও বেশি সময় নাগপুরের ওই স্থাপনাতেই আটকে থাকতে হয় এবং অবশেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এটি সেখান থেকে ছাড়া পায়।
জানা গেছে, নাগপুর এমআরও থেকে পুনরায় উড়ান শুরু করার পর এবং বুধবার দিল্লিতে গ্রাউন্ডেড হওয়ার আগে পর্যন্ত ভিটি-এএলএল বিমানটি ইতিমধ্যে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, বুধবার দিল্লি থেকে ওড়ার পর বিমানটির 'ট্র্যাফিক কলিশন অ্যাভয়ডেন্স সিস্টেম' (টিসিএএস) বিকল হয়ে যায়, যার ফলে মাঝ আকাশ থেকেই সেটি ফিরে আসতে বাধ্য হতে হয়। উল্লেখ্য, এই টিসিএএস প্রযুক্তিটি আকাশে দুটি বিমান একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে এলে স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সাহায্য করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, নাগপুর এমআরও-তে দীর্ঘ ওভারহলিং বা মেরামতের সময় বিমানটির যে সমস্ত প্রযুক্তিগত সিস্টেম পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার মধ্যে এই টিসিএএস-ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
উক্ত সিস্টেমে অ্যান্টেনা, ট্রান্সপন্ডার এবং লাইন রিপ্লেসমেন্ট ইউনিট (এলআরইউ)-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। নাগপুরের দীর্ঘ রক্ষণাবেক্ষণ সময়কালে ভিটি-এএলএল বিমানটির প্রায় সমস্ত প্রধান যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে এর দুটি ইঞ্জিন এবং ল্যান্ডিং গিয়ার সিস্টেমও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিমান রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, টিসিএএস হলো বিমানের অ্যাভিওনিক্স স্যুটের একটি অংশ এবং এই ত্রুটিটি সংশোধন করা গেলেই বিমানটি পুনরায় উড়ানের ছাড়পত্র পাবে। আন্তর্জাতিক রুটে পুরোদমে ব্যবহারের আগে বিমানটিকে প্রাথমিকভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটে চালানো হয়েছিল। এদিকে এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ফ্লাইটটি দিল্লিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং এর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রযুক্তিগত তদন্ত করা হবে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দর এলাকাতেই অবস্থান করছিল।

