Spread the love
পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) প্রদানের ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ঠিক ৫৫ মিনিট আগে (দুপুর ৩ টে ৫ মিনিট) মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে রোপা ২০০৯-র (পঞ্চম বেতন কমিশন) আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে।
অর্থ দফতরের তরফে জারি করা নিয়মাবলী ও বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে সেই বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার প্রেক্ষিতে সরকারিভাবে অর্থ দফতরের তরফে আপাতত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
ভোটের আগে আচমকা ঘোষণা মমতার
এমনিতে ৫ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে কোনওরকম উচ্চবাচ্য করা হয়নি। দিনকয়েক আগে রাজ্যের তরফে সময় বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হয়। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। কিন্তু বিকেল চারটে থেকে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক ৫৫ মিনিট আগে তাঁদের মন জয়ের চেষ্টা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদেরও বকেয়া ডিএ দেবে রাজ্য
শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা নন, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মন জয়ের চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার। কারণ বকেয়া ডিএ প্রদানের আর্জি জানিয়ে রাজ্য সরকার যখন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়, সেই একটি রিপোর্ট সামনে আসে। তা দেখে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করতে থাকেন যে তাঁদের পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে না। কিন্তু আজ মুখ্যমন্ত্রী একেবারে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দিয়েছেন যে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদেরও রোপা ২০০৯-র আওতায় বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কী বলছেন?
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর এই বিলম্বিত বোধোদয়কে সম্মান জানিয়ে বলছি এই বোধদয় আগেই হওয়া উচিত ছিল। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কোন সরকার বা কোন শাসক বেশিদিন এগিয়ে যেতে পারে না - এটাই তার প্রমান। অবিলম্বে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে করা এম এ ফাইল এবং রিভিউ পিটিশন প্রত্যাহার করে সপ্তম পে কমিশনের গেজেট নোটিফিকেশন জারি করুক। অস্থায়ী কর্মীদের নিয়মিতকরণ সহ অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়া হোক। সমস্ত মামলাকারী সংগঠন এবং লড়াকু সমস্ত কর্মচারীকে অভিনন্দন জানাই।'

