Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
অন্যের বিপদে মনে মনে খুশি হন? জানুন এই কুৎসিত মানসিকতার পেছনে লুকিয়ে থাকা মনস্তাত্ত্বিক সত্য! - এবেলা

অন্যের বিপদে মনে মনে খুশি হন? জানুন এই কুৎসিত মানসিকতার পেছনে লুকিয়ে থাকা মনস্তাত্ত্বিক সত্য! - এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ফিসে সহকর্মী বকুনি খেলে কি আপনার ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি ফোটে? কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের পতন দেখলে মনে মনে স্বস্তি পান? শুনতে অস্বস্তিকর হলেও, মনোবিজ্ঞানীদের মতে এটি মানুষের মস্তিষ্কের এক অদ্ভুত ও জটিল আবেগ।

জার্মান ভাষায় এই বিশেষ অনুভূতিকে বলা হয় 'শ্যাডেনফ্রয়ডে' (Schadenfreude) -যার সহজ অর্থ হলো, অন্যের দুর্ভাগ্য বা ক্ষতি দেখে মনে মনে আনন্দ পাওয়া।

কেন মানুষ অন্যের ব্যর্থতায় আনন্দ পায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের অবচেতন মন সারাক্ষণ নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে। এর পেছনে মূলত ৪টি কারণ কাজ করে:

  • আত্মমর্যাদার অভাব: যাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাস কম, অন্যের পতন তাদের নিজস্ব অপূর্ণতাকে সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয়।
  • প্রতিযোগিতার ইঁদুরদৌড়: বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে কোনো সহকর্মী হোঁচট খেলে অনেকে মনে করেন তাঁর নিজস্ব গুরুত্ব বা প্রমোশনের সুযোগ বেড়ে গেল।
  • নিরাপত্তার অনুভূতি: নিজের চেয়ে সফল বা ক্ষমতাবান কেউ বিপদে পড়লে মানুষ অবচেতনভাবেই নিজের অবস্থানকে বেশি নিরাপদ মনে করে।
  • আদিম মানসিকতা: বিবর্তনবাদীদের মতে, আদিম যুগে প্রতিদ্বন্দ্বীর দুর্বলতা নিজের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়াত; সেই অবচেতনের প্রভাব আজও রয়ে গেছে।

এটি কি সবসময় খারাপ?

সব ক্ষেত্রে এই অনুভূতি ক্ষতিকর নয়। যেমন-কোনো দুর্নীতিবাজ বা অন্যায়কারী শাস্তি পেলে যে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পায়, তাকে সমাজবিজ্ঞানীরা 'ন্যায়বিচার' বা 'পোয়েটিক জাস্টিস' হিসেবে দেখেন। তবে বিনা কারণে কেবল অন্যকে কষ্ট পেতে দেখে আনন্দ পাওয়া ব্যক্তিত্বের চরম নেতিবাচক দিক প্রকাশ করে।

কীভাবে এড়াবেন এই অন্ধকার মানসিকতা?

১. সহানুভূতি বাড়ান: অন্যের বিপদে নিজেকে তার জায়গায় বসিয়ে চিন্তা করার অভ্যাস করুন। ২. তুলনা বন্ধ করুন: অন্যের সাফল্য বা ব্যর্থতার সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করা বন্ধ করুন। ৩. নিজের আবেগ চিনুন: অন্যের খারাপ সময়ে মনে আনন্দ এলে অপরাধবোধে না ভুগে সচেতনভাবে নিজেকে সামলান। ৪. কৃতজ্ঞ থাকুন: অন্যের পতনকে নিজের সাফল্য না ভেবে, নিজের যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শিখুন।

পরামর্শ: যদি এ জাতীয় হিংসা বা নেতিবাচক চিন্তা আপনার স্বাভাবিক জীবনযাপন ও মানসিক শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে অবহেলা না করে একজন পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ebela Live