মে মাসের ৪ তারিখ ভোটগণনার আগে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথফেরত সমীক্ষার নেতিবাচক পূর্বাভাস, আইনি লড়াইয়ে হার এবং স্ট্রংরুম ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি-সব মিলিয়ে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে এখন টানটান উত্তেজনা। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে একাধিক সংস্থা, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
বিজেপির উত্থানের পূর্বাভাস ও আইনি ধাক্কা
বেশিরভাগ বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ম্যাট্রিজ (Matrize) এবং পি-মার্কের (P-Marq) মতো সংস্থাগুলো বিজেপিকে ১৪৫ থেকে ১৭৫টি আসন দেওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমীক্ষাকে কর্মীদের মনোবল ভাঙার ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে আইনি লড়াইয়ে হার তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের গণনা তদারকিতে নিয়োগ এবং ভোটগণনা কেন্দ্র পরিবর্তনের বিরুদ্ধে করা দুটি আবেদনই কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ায় ধাক্কা খেয়েছে শাসক দল।
স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ও ইভিএম বিতর্ক
ভোটগণনার ঠিক আগে ভবানীপুরের একটি স্ট্রংরুমের সামনে মধ্যরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইভিএম কারচুপির অভিযোগে সেখানে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। অন্যদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে ব্যালট পেপার নিয়ে কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজাও। বিজেপি এই পরিস্থিতিকে মমতার 'হার স্বীকার' বলে কটাক্ষ করলেও নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়েছে, স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ডাকঘর ব্যালট বাছাইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র।
এক ঝলকে
- অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
- গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের দুটি আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
- ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে মধ্যরাতে ঝটিকা সফর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সমস্ত ইভিএম ও ব্যালট সুরক্ষিত আছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
The post ভোট গণনার আগেই মমতার কপালে চিন্তার ভাঁজ! এক ধাক্কায় খেলেন ৩টি বড় ঝটকা, কী হতে চলেছে ৪ মে? appeared first on এবেলা.

