Dailyhunt
বিদেশের বাজারে মালদার আমের জয়জয়কার, ৩০০ মেট্রিক টন রফতানির লক্ষ্যমাত্রায় সাজ সাজ রব!

বিদেশের বাজারে মালদার আমের জয়জয়কার, ৩০০ মেট্রিক টন রফতানির লক্ষ্যমাত্রায় সাজ সাজ রব!

বাংলার আমের বিশ্বজয়ের পথে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মালদা জেলা। মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার বাজারে রেকর্ড পরিমাণ আম রফতানির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৫ মেট্রিক টন আম বিদেশে পাঠানো হলেও, চলতি বছরে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৩০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রফতানিকারকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বরাত মেলায় জেলা প্রশাসন ও উদ্যানপালন দপ্তরে এখন সাজ সাজ রব।

আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও প্যাকেজিং

বিদেশের বাজারে মান বজায় রাখতে এবার প্রথাগত পদ্ধতির বদলে বিশেষ 'ফ্রুট ব্যাগিং' প্রযুক্তিতে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ হেক্টর আমবাগানকে রফতানির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে গাছের আমগুলিকে বিশেষ কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়, যাতে পোকা বা রোগবালাই আক্রমণ করতে না পারে। এর ফলে কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই আমগুলি সম্পূর্ণ দাগমুক্ত ও উজ্জ্বল থাকে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন। এছাড়া, আম সংরক্ষণের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্যাকেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও রফতানি পরিকল্পনা

উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রফতানি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ভুটান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো মালদার আমের গুণগত মানে সন্তুষ্ট হওয়ায় এবার বরাতের পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে। মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুরের মতে, আম এই জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল। পরিকাঠামোগত সমস্যা দূর করে যদি সরাসরি রফতানির সুযোগ বাড়ানো যায়, তবে চাষিরা সরাসরি লাভবান হবেন।

এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় আম চাষিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি সহায়তা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আম কেন্দ্রিক শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ebela Live