এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি: দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে হঠাৎই পারদ চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে বঙ্গভবনে এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও।
বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের দিকে রওনা দেওয়ার সময় শুভেন্দু ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, "ইয়ে তো ব্যস ঝাঁকি হ্যায়, আগে দেখুন কী হয়।"
বঙ্গভবনের বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন?
এদিনের হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মোট ২২ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে এনসিপিআই-এর ১৯ জন সাংসদের পাশাপাশি রাজ্যসভার তিন বিজেপি সাংসদ-সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও হাজির ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। যদিও এই তিন সাংসদকে এনডিএ (NDA)-র সমন্বয় বৈঠকে দেখা যায়নি, তাঁরা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বলে জানান।
এনডিএ-র 'মঙ্গল মিলন' ও রাজনৈতিক জল্পনা
এর আগে সকালে সংসদ ভবনে এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো এনসিপিআই নেতারা। মোদী-শাহের সারিতে তাঁদের উপস্থিতি রাজনৈতিক জল্পনা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
বৈঠক শেষে উচ্ছ্বসিত এনসিপিআই সাংসদরা
শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপিআই সাংসদদের বেশ প্রফুল্ল মেজাজে দেখা যায়:
- রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়: জল্পনা উস্কে দিয়ে তিনি বলেন, "আমরা ২০ জনই আছি, সংখ্যাটা সামনে আরও বাড়তে পারে। ২০ অগাস্টের আগেই সব স্পষ্ট হবে, আপনারা বুঝে নিন।"
- শতাব্দী রায়: এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, "দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা হয়নি, মূলত এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব ভালো বৈঠক হয়েছে, আগামী দিনে আমরা নবান্নে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করব।" পুরনো দলে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, "যাঁরা অপমানিত হয়ে এনসিপিআই-তে এসেছেন, তাঁদের আর কেউ পুরনো দলে ফিরবেন না।"
- সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: বৈঠককে 'ফলপ্রসূ' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সাংসদ ও বিধায়কদের যৌথ বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা এনসিপিআই-তেই রয়েছেন এবং এলাকার উন্নয়নের জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে শুভেন্দুর এই বৈঠকের পর দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

