ভাঙড়ের নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে একটি ভাইরাল গান, যেখানে তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে ‘মাছচোর’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়া এই গানটি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি। গানটির সঙ্গে দলের সরাসরি যোগসূত্র অস্বীকার করলেও, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি।
অন্যদিকে, চরিত্রহননের অভিযোগে এই গানের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শওকত মোল্লা।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ
নওশাদ সিদ্দিকির দাবি, গানটিতে শওকত মোল্লাকে ‘মাছচোর’ বলে আসলে কমই বলা হয়েছে। তাঁর মতে, ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের মানুষ শওকতকে ‘খুনি’ বা ‘বোমাবাজ’ হিসেবেই বেশি চেনে। আইএসএফ বিধায়ক জানান, তাঁর ফেসবুক ফিডে গানটি বারবার আসছে এবং বিদেশেও এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে গানটির নেপথ্যে দলীয় হাত থাকার দাবি নাকচ করলেও আইএসএফের প্রচার মিছিলে এটি নিয়মিত বাজতে দেখা গেছে। মূলত শওকতের পুরনো মাছ ব্যবসার প্রেক্ষাপটেই গানটিতে ‘মাছচোর’ ও ‘মৌখালির গাঁজাখোর’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
মর্যাদাহানির অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ শওকত
এই গানটিকে ‘নোংরামো’ ও ‘নিচু মানসিকতার পরিচয়’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক লড়াই ময়দানে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে নয়। এই ধরণের অপপ্রচারের প্রতিবাদে তিনি দ্রুত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ভাঙড়ে এবারের ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও, গণনার আগে এই ভাইরাল গানকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই গান এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মিম এখন স্থানীয় রাজনীতির আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে।
The post ‘মাছচোর নয়, ও তো খুনি-বোমাবাজ!’ শওকতকে নিয়ে ভাইরাল গান প্রসঙ্গে বিস্ফোরক নওশাদ সিদ্দিকি appeared first on এবেলা.

