এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ অক্টোবর : লালবাজারে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল এবং মালতী । ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এই দম্পতি আজ শুক্রবার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দর কাছে একটি AK-47 এবং একটি INSAS রাইফেলসহ আত্মসমর্পণ করেছেন । তাদের মধ্যে একজনের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা।
অন্য জনের ২ লক্ষ টাকা।
তাদের দু'জনেই মূলতঃ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এবং মালতীর বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে। ২০১০ সালে শালবনিতে 'জনসাধারণের কমিটি' যখন সক্রিয় ছিল, ঠিক সেই সময়েই মাওবাদী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন মঙ্গল। তিনি একসময় মাওবাদী শীর্ষ নেতা কিষেণজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১১-১২ সাল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের দলমা এবং পরে সারান্ডা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের দায়িত্ব নেন মঙ্গল। কিছুকাল পর মালতীও সারান্ডায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেন।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় মঙ্গলের বিরুদ্ধে অন্তত ৬-৭টি গুরুতর অপরাধমূলক মামলা ঝুলছিল এবং তাঁর মাথার দাম রাখা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, মালতীর মাথার দাম ছিল ২ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণের পর মঙ্গল বলেন,'সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই আমরা সেই পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে চাই। সেই কারণে আমরা এখানে এসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।'
পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, সারান্ডায় তাঁদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালে ওই এলাকা ছাড়তে শুরু করেন মাওবাদীরা। তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৩ জন মাওবাদী ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় গ্রেফতার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকেই তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন । এর আগে গত জুন মাসে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বর্ষীয়ান মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। তারও আগে মে মাসে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ।এবার মঙ্গল এবং মালতী আত্মসমর্পণ করলেন কলকাতা পুলিশের কাছে ।।

