এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০২ সেপ্টেম্বর : মঙ্গলবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে ফের বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । তিনি সেইসব দেশের মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যারা সন্ত্রাসবাদকে "রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার" হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও নিয়োগ করে ।
তিনি ওই সমস্ত দেশগুলিকে(পাকিস্তান) এই "দ্বৈত নীতি" প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন । এই বিবৃতিটি ছিল পাকিস্তানের প্রতি একটি সরাসরি ইঙ্গিত,যারা এই সংস্থার পরবর্তী সভাপতিও ।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে বার্ষিক এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী "পুরো বাস্তুতন্ত্রকে ভেঙে ফেলার" জন্য একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন, যার মধ্যে অর্থায়ন, নিয়োগ, উগ্রবাদে দীক্ষা এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন,'সন্ত্রাসবাদ সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা শুধু প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারি না । আমাদের অবশ্যই সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, লোক নিয়োগ, উগ্রপন্থায় দীক্ষা এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থলের পুরো ব্যবস্থাটি ভেঙে দিতে হবে। আমাদের এক স্বরে কথা বলতে হবে এবং এটা স্পষ্ট করে দিতে হবে যে, এই গুরুতর বিষয়ে দ্বৈত নীতির কোনো স্থান নেই ।'
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন,'যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় ও সমর্থন দেয়, তাদের প্রতি আমাদের একটি কড়া বার্তা দিতে হবে যে, সন্ত্রাসবাদ কখনোই কারও জন্য কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না । আজকের এই আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে নিরাপত্তার পরিধি আরও ব্যাপক হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকট দেখিয়েছে যে, কোনো একটি অঞ্চলের সংঘাত শুধু সেই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে না । এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করবে। এই ধরনের বিঘ্নের সবচেয়ে বেশি শিকার হবে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলো ।'
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে উত্তেজনা ও সংঘাতের সমাধান করা উচিত। তিনি বলেন,'তাই ভারত ধারাবাহিকভাবে সব ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাতের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।'
বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে টোগোর রাষ্ট্রপতি ফাউরে এসোজিমনা গ্নাসিংব, মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি উখনা খুরেলসুখের, আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভ, পিডিআর-এর রাষ্ট্রপতি থংলুন সিসৌলিথ, তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।।
Author : Eidin Desk
PM Narendra ModiShanghai Cooperation Organization

