Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
১১ জনকে ধর্ষণ করে খুন, ১২ বছরেও ফাঁসির সাজা কার্যকর হয়নি ধর্ষকের

১১ জনকে ধর্ষণ করে খুন, ১২ বছরেও ফাঁসির সাজা কার্যকর হয়নি ধর্ষকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ৮ বছর বয়সী নাবালিকা রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশ। শিশুকন্যাকে যেভাবে খুন করা হয়েছে তা জানার পর শিউড়ে উঠেছেন অনেকেই। অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছে রামিসার পরিবার। তবে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার হাল দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন রামিসার ধর্ষক-খুনির কি হবে?

শাস্তি পাবে তো? কারণ, দেশে এমন বহু আলোচিত ও স্পর্শকাতর অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। শুধু তাই নয় চূড়ান্ত সাজা কার্যকর হতেও কেটে যাচ্ছে যুগের পর যুগ।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ঘটেছে মর্মান্তিক এই ঘটনা। জঘন্য অপরাধের বিচারের দাবিতে রাজধানীজুড়ে চলছে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি ও বিক্ষোভ। রবিবার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান বলেছেন দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযুক্তকে দ্রুত শাস্তি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও সাধারণ মানুষের মনে কাটছে না শঙ্কা। বিগত দুই দশকের ইতিহাস পর্যালোচনা করে অনেকেই রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করছেন।

রামিসার হত্যাকারীকে শাস্তি দেওয়ার দাবিতে যখন উত্তাল বাংলাদেশ তখন সামনে এসেছে বহুল আলোচিত ও চর্চিত চাঁদপুরের ‘সিরিয়াল কিলার’ রসু খাঁ-এর নাম। মিরপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে রসু খাঁর অপরাধ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, রসু খাঁ একাই ১১ জন নারীকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক ভাবে খুন করেছিল। আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে একটি মামলায় নিম্ন আদালতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ ৯ বছর পর ২০২৪ সালে উচ্চ আদালত তার সেই ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে। হাইকোর্ট তাদের রায়ের পর্যবেক্ষণে রসু খাঁকে একজন চরম নৃশংস ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করে। আদালত স্পষ্ট জানায়, এই অপরাধী কোনো ধরনের আইনি সাহায্য পাওয়ার যোগ্য নন এবং সর্বোচ্চ শাস্তিই তার একমাত্র প্রাপ্য। অথচ হাইকোর্টের সেই যুগান্তকারী রায়ের পর প্রায় দুই বছর কেটে গেলেও এখনো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এর চূড়ান্ত শুনানি হয়নি। ফলে থমকে আছে আইনি প্রক্রিয়া। কার্যকর করা সম্ভব হয়নি তার মৃত্যুদণ্ড।

আরও পড়ুন: 'ইরান যুদ্ধ নিয়ে কয়েক ঘন্টায় সুখবর', দিল্লিতে জানালেন মার্কিন বিদেশ সচিব

সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের যৌথ গবেষণায় দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের সংবেদনশীল অপরাধের মামলায় সাজার হার মাত্র তিন শতাংশ। তথ্য ও প্রমাণের অভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলার অভিযুক্তরা শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। যদিও আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এই ধরনের মামলা নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, তা সত্বেও বাস্তবে নিম্ন আদালতেই একটি মামলার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে একটি আলোচিত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এমন হাজারো মামলা উচ্চ আদালতে থমকে আছে। যেমনটি গত বছরের মার্চ মাসে মাগুরায় আট বছরের শিশু আসিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেখা গিয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ei Muhurte