নিজস্ব প্রতিনিধি: নদিয়ার শান্তিপুরে এক গৃহবধূর অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। স্বামীর অনলাইন বেটিং ও জুয়ার নেশার প্রতিবাদ করায় তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু গৃহবধূই নন, তাঁর দিদি এবং বৃদ্ধা মাকেও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার স্বামী এবং তৃণমূল নেতা দেওরের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নীলরতন সিকদার ফুলিয়া ফাঁড়িতে কর্মরত একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা বিশ্বাস দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী মোবাইলের মাধ্যমে জুয়ার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে আইপিএলকে কেন্দ্র করে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। এই অভ্যাসের কারণে সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং পরিবারে অশান্তি বেড়েছে। গৃহবধূ সুস্মিতার অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি বাবাকে হারানোর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময়েও স্বামীর আচরণে পরিস্থিতি আরও চরম আকার নেয়। তাঁর দাবি, স্বামী তাঁকে এবং তাঁদের ছোট সন্তানকেও পর্যন্ত মারধর করেছেন। শনিবার রাত থেকে পারিবারিক অশান্তি চরমে ওঠে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন: ঝাড়গ্রামে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি ধান চাষের, মাথায় হাত চাষীদের
তিনি জানিয়েছেন, রবিবার সকালেও তাঁকে গালাগালি করা হয়। প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, স্বামীর ভাই স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য, তিনিও ঘটনাস্থলে এসে দুর্ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, সুস্মিতার দিদি এবং বৃদ্ধা মায়ের উপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। থানার সামনে দাঁড়িয়ে সুস্মিতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভয় এবং সামাজিক চাপে সবকিছু সহ্য করেছেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, গৃহবধূর পরিবারের লোকজনই প্রথমে আক্রমণ করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

