নিজস্ব প্রতিনিধি: অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কখন, কোথায় এবং কতটা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা উচিত-সেই সীমারেখা না মানলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে এক মহিলা কর্মী জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে কিছু বিষয় কখনও প্রকাশ করা উচিত নয়।
তাঁর মতে, সামান্য ভুল শেয়ারিংও অফিস রাজনীতি, ভুল বোঝাবুঝি এবং ক্যারিয়ারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা এবং একটি বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত এক মহিলা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কর্পোরেট জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেছেন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি এমন ১০টি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, যা অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা থেকে তিনি সবসময় বিরত থাকেন।
আরও পড়ুন: ফের ধাক্কা ধূমপায়ীদের, এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ল সিগারেটের দাম
ওই মহিলার মতে, কর্মক্ষেত্রে নিজের বেতনের তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ এতে সহকর্মীদের মধ্যে তুলনা শুরু হয়, যা অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা ও মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে। একইভাবে, অফিসের গসিপ বা সহকর্মীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করাও ক্ষতিকর। এতে ধীরে ধীরে বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায় এবং পেশাদার ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক সমস্যা বা ঘরের অশান্তি অফিসে আলোচনা করা উচিত নয়। এসব তথ্য অনেক সময় অন্যদের চোখে আপনাকে কম পেশাদার হিসেবে তুলে ধরতে পারে। পাশাপাশি ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এই বিষয়গুলো সহজেই বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, বসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বা চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনা সহকর্মীদের জানানোও ঝুঁকিপূর্ণ। এতে আপনার প্রতি প্রতিষ্ঠানের আস্থা কমে যেতে পারে। এছাড়া কোম্পানির গোপন তথ্য শেয়ার করাও পেশাগত নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে পড়ে।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখেছেন। অনেকে জানিয়েছেন, অতীতে এমন ভুল করে তাঁরা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। এই আলোচনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, কর্মক্ষেত্রে শুধু কাজ নয়, কী বলা উচিত আর কী বলা উচিত নয় -সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

