Dailyhunt
বাড়ির বাধানিষেধে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সঙ্গে যা করলেন তরুণী.

বাড়ির বাধানিষেধে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সঙ্গে যা করলেন তরুণী.

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিল তরুণী। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও আর ফেরেনি সে। উদ্বিগ্ন পরিবার যখন মেয়ের খোঁজে দিশেহারা, ঠিক তখনই মোবাইলে আসে এক চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা-'আমাকে অপহরণ করা হয়েছে!' মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা পরিবারে। অপহরণের অভিযোগ ঘিরে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশও।

কিন্তু তদন্তে সামনে আসে আরও অবাক করা সত্যি। শেষ পর্যন্ত জানা যায়, গোটা অপহরণের নাটক সাজিয়েছিল তরুণী নিজেই!

বিহারের রোহতাস জেলার ডেহরি এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডালমিয়ানগর থানার অন্তর্গত মানেরি বিঘা গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ মাহাতোর মেয়ে ২৮ এপ্রিল কলেজ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বহু চেষ্টা করেও কোনও সন্ধান না মেলায় শেষমেশ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরই মাঝে ২৯ এপ্রিল তরুণীর মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারের কাছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তাকে অপহরণ করে সাসারামে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে। এই বার্তা পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে শুরু হয় তল্লাশি।

আরও পড়ুনঃ গ্রামের একটি সাধারণ বাড়ির আলমারির দরজা খুলতেই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ , গ্রেফতার ৪

প্রাথমিকভাবে কোনও সূত্র না মিললেও প্রযুক্তির সাহায্যে তদন্ত চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তরুণীর অবস্থান ডেহরি অন সোন রেলস্টেশনের আশপাশে। এরপর অভিযান চালিয়ে স্টেশন চত্বর থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী স্বীকার করে, অপহরণের গল্পটি সে নিজেই বানিয়েছিল। তার অভিযোগ, পরিবারে অতিরিক্ত বাধানিষেধ ও নিয়ন্ত্রণের কারণে সে মানসিকভাবে চাপে ছিল। স্বাধীনতার অভাব অনুভব করেই বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে। এমনকি পরিবারের লোকজনকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যও ছিল বলে জানিয়েছে তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর কাউন্সেলিং করানো হয়েছে। পরে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ei Muhurte