নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বদ্রীনাথে দানের অর্থে অনিয়মের অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তের পর মন্দির কমিটির এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হল। একই সঙ্গে পৃথক তদন্তে নেমেছে উত্তরাখণ্ড সরকার। ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছে প্রশাসন।
শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী বুধবার জানান, প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে।
সেই কারণেই কমিটির ব্যক্তিগত সচিব প্রমোদ নৌটিয়ালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ফিরতে পারবেন না। দ্বিবেদীর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মন্দির কমিটির অবস্থান কঠোর। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপও করা হবে। কয়েক দিন আগে সামাজিক মাধ্যমে বদ্রীনাথ মন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ গণনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভৈরব সেনা নামে একটি সংগঠন বিষয়টি নিয়ে সরব হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে তদন্ত এবং এফআইআর দায়েরের দাবিও জানানো হয়। অভিযোগ, দানের অর্থের হিসাবে গরমিল হয়েছে। অভিযোগ সামনে আসতেই বিকেটিসি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বয়ান এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন অর্থ নিয়ন্ত্রক হেম কাণ্ডপাল, আইন আধিকারিক এস. এস. বার্টওয়াল, প্রধান প্রশাসনিক আধিকারিক রাজন নৈথানি এবং কেদারনাথের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিক ডি. এস. ভুজওয়ান। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নির্দেশে পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় উত্তরাখণ্ড সরকার। গড়ওয়াল বিভাগের কমিশনার আনন্দ স্বরূপের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্য রয়েছেন সন্দীপ তিওয়ারি ও জগৎ সিং চৌহান। ১৫ দিনের মধ্যে সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃনিউইয়র্কে বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারত বিরোধী বড় ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা!
পর্যটন সচিব ধীরাজ সিং গর্ব্যাল জানান, মন্দির কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টে একাধিক প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। সেই কারণেই স্বাধীন তদন্তের সিদ্ধান্ত। এদিকে কংগ্রেস বিচারবিভাগীয় তদন্ত অথবা বিধানসভার যৌথ কমিটির মাধ্যমে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি তুলেছে। ঘটনার পর বিকেটিসি-র অধীন ৫২টি মন্দিরে দানের অর্থের হিসাব ও আর্থিক লেনদেনে আরও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

