নিজস্ব প্রতিনিধি: ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ থেমে যাবে? রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নমনীয় মনোভাবে তেমনই আশার আলো দেখছেন রাজনীতির পণ্ডিতরা। আজ মঙ্গলবার (২৩) রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, '২০২২ সালে ইস্তাম্বুলে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত।ইস্তাম্বুল চুক্তি থেকে সরে আসার কোনও কারণ নেই।' পুতিনের এমন মন্তব্য নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদিমির জেলেনস্কি।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে একাধিকবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। যদিও তাতে সাড়া দেয়নি মস্কো। দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের গদিতে বসার পরে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি একান্তে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছিলেন। যদিও তাতে কোনও লাভ হয়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় রাশিয়া। ওই অভিযানের চার দিনের মাথায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলারুশে শান্তি আলোচনায় বসেছিলেন রুশ ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। যদিও আলোচনা নিস্ফলই থেকে গিয়েছিল। পরে মার্চে তুরস্কের তরফে দুই দেশের মধ্যে সঙ্ঘাত বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইস্তাম্বুলে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একটি খসড়া শান্তিচুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছিল। তার শর্তানুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা থেকে সরে আসবে এবং নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর আকার সীমিত করবে (দুই বছর পর এই খসড়াটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়)। চুক্তি অনুযায়ী, ক্রিমিয়া কার্যত রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণেই থেকে যেত। অন্যদিকে রুশ সেনাবাহিনী দনবাসের যেসব এলাকা দখল করেছে, সেগুলোর ভাগ্য কী হবে-তা পরে ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল।

