নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রতিশ্রুতির লড়াই তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে সামাজিক ভাতা প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। এই ভাতা সাধারণ মানুষের জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও বিরোধীরা বরাবরই এর সমালোচনায় সরব ছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাও এই প্রকল্পগুলির প্রভাব স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তবুও আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি বা বামফ্রন্ট কোনও পক্ষই সরাসরি এই ধরনের ভাতা প্রকল্পকে ইস্তেহারে গুরুত্ব দেয়নি। বরং তাঁরা অন্য দিকগুলিতে জোর দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার বামফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে, যেখানে মোট ২২টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত এই ইস্তেহারে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিষেবা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণের কথাও বলা হয়েছে। প্রতি বছর স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিকভাবে এসএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাসও রয়েছে।
আরও পড়ুন: টোল প্লাজায় নগদে লেনদেন বন্ধ, বদলে যাচ্ছে জাতীয় সড়কে যাতায়াতের নিয়ম
তবে ইস্তেহারের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিশ্রুতি হল বিদ্যুৎ পরিষেবায় ছাড়। যাঁরা আয়করদাতা নন, তাঁদের জন্য ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ অর্ধেক দামে সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। নারী সুরক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে বামফ্রন্ট। ‘অভয়া’ আবেগকে সামনে রেখে ‘অভয়া বাহিনী’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং মাসিক ৬০০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতিও এই ইস্তেহারে উল্লেখযোগ্য স্থান পেয়েছে।
ইস্তেহার প্রকাশের পর বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএস ইচ্ছাকৃতভাবে ভাষা, ধর্ম এবং বর্ণের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে বামপন্থীরাই মানুষের সামনে একটি বিকল্প পথ তুলে ধরেছে এবং সেই লক্ষ্যেই এই ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিমান বসু আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের নামই নয়, বহু হিন্দু ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর অনিয়ম হিসেবে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। তাঁর অভিযোগ, কমিশন যেভাবে কাজ করছে তা নিরপেক্ষ নয় এবং তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, মোথাবাড়ি ও কালিয়াচকের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকেও তিনি সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনাগুলির পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

