আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ থেকে ঠিক দু'বছর আগে কোটার বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে আন্দোলন শুরু হলে, আগস্টে সেটি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সেনা নামিয়েও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আগত্যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন মুজিব কন্যা।
তারপর থেকে ভারতেই তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে নিজের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল হাসিনাকে। আজ, বুধবার ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। আর সেই বর্ষপূর্তির দিন দিল্লি থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত করে আওয়ামী লিগ। তাতে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন হাসিনা।
আরও পডুন: 'ভাগ্যে যা-ই ঘটুক বাংলাদেশে ফিরবই', দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা শেখ হাসিনার
মুজিব কন্যা বলেন, ‘আমি নিজের লোকেদের কাছে ফিরব। নিজের দমেই ফিরব। কারণ ওরা আমাকে ভরসা করে। বাংলাদেশের মানুষ ভাল নেই। আমাকে তাই ফিরতেই হবে। জনগণের প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় দেখিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। আমি ক্ষমতার লোভে দেশে ফিরব না। দেশের মানুষকে বাঁচাতে, তাদের নিরাপত্তা দিতেই ফিরব। বাংলাদেশে এখন কোনও নিরাপত্তা নেই মানুষের। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য, বিচারক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং এমনকি রিকশাচালকদেরও আক্রমণ করা হচ্ছে। ৪৫০টি থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের খুন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখা কি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ছিল না। পড়ুয়াদের আন্দোলন প্রথম থেকেই শান্তিুপূর্ণ ছিল না। মুহাম্মদ ইউনূসের অবৈধ সরকার খুনিদের ছাড়পত্র দিয়েছিল।’
হাসিনা আরও বলেন, ‘আমার ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকে হাজার হাজার আওয়ামী লিগ নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি পুলিশকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের গ্রেফতার, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সংবিধানের উপর লাগাতার আক্রমণ হচ্ছে। গণতন্ত্র লুঠ হচ্ছে। আমি ফিরব গণতন্ত্রের স্বার্থে। নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি, একমাত্র বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।’

