নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রোড শোয়ে ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি! এবার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিস। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জনকে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
শুধু তাই নয়, আলিপুর থানার ওসিকেও সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন।
বঙ্গে ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে রাজ্যের একাধিক পুলিশ অফিসার ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এবার ভবানীপুরে পরপর চার অফিসারকে সাসপেন্ড করা হল। আজ, শনিবার (৪ এপ্রিল) ওসি থেকে ট্রাফিক সার্জেন্টকে সাসপেন্ড করা হয়েছে শনিবার। গত বৃহস্পতিবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জেরেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহের রোড শোয়ে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যে এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। আর তার পরে কলকাতা পুলিশের ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে শোকজ করা হয়েছে। দুজনেই বৃহস্পতিবার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। কীভাবে ওই পরিস্থিতি তৈরি হল, কেনইবা জমায়েত করার সুযোগ করে দেওয়া হল, এমনই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ওই দুই আধিকারিককে।
অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী এবং অমিত শাহের রোড শো মিছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রীতিমতো তৃণমূল-বিজেপির কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই ঘটনায় জেলা আধিকারিকের (ডিইও) কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। অশান্তির ঘটনায় কালীঘাট এবং আলিপুর থানায় পৃথক ভাবে তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা এবং একটি কমিশনের আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। মূলত বেআইনি জমায়েত, শান্তিভঙ্গ এবং সরকারি নির্দেশিকা বা ১৬৩ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমনকি শাহের কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো নির্দেশ পেয়েই অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।

