নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টানা প্রবল বৃষ্টির জেরে মুম্বই-পুণে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ধস। এই দুর্ঘটনার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হল। এছাড়াও রেললাইনে পাথর নেমে আসা এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে সোমবার সকাল থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে ও পুরনো জাতীয় সড়ক। একাধিক জায়গায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, মুম্বইয়ে কমলা সতর্কতা এবং পুণের জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যরাতের পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। রাত প্রায় ৩টা ৫ মিনিটে কারজাত-লোণাভলা ভোরঘাট রেলপথের ঠাকুরওয়াড়ি এলাকায় ধস নামে। এরপর খণ্ডালা ও মানকি হিলের মাঝেও আরও একটি ধসের ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টির জেরে মুম্বইমুখী, পুণেমুখী এবং মধ্যবর্তী, তিনটি রেললাইনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির জেরে অন্তত ১৬টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আরও ৯টি ট্রেন অন্য পথে ঘুরিয়ে চালানো হচ্ছে। বাতিল হওয়া ট্রেনের মধ্যে রয়েছে ইন্দ্রায়ণী এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস, ডেকান কুইন, প্রগতি এক্সপ্রেস, ধুলে এক্সপ্রেস এবং সিংহগড় এক্সপ্রেস। বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বা সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।
বর্ষার পারফেক্ট সঙ্গী! আকর্ষণীয় ছাড়ে প্রাইম ডে সেলে মিলবে ওয়াটারপ্রুফ স্মার্টওয়াচ
অন্যদিকে, খোপোলি-কুসগাঁও মিসিং লিঙ্কের টানেল-২-এর কাছে ধস নামায় পুণেমুখী যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরনো মুম্বই-পুণে সড়কের একাধিক অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সেখানে যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। খণ্ডালা ঘাট এলাকাতেও জল জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া মুম্বই ও পুণের মধ্যে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের যাত্রার আগে ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান জেনে নেওয়ার অনুরোধ করেছে। টানা দুর্যোগের জেরে সোমবার মুম্বই, পুণে, থানে এবং পালঘর জেলার সমস্ত সরকারি, বেসরকারি ও পুরসভার অধীন স্কুল-কলেজে ছুটি ও যাদের অফিস আছে তাঁদের বাড়ি থেকে কাজ করার ঘোষণা করা হয়েছে।

