নিজস্ব প্রতিনিধি: কেপ ভার্দের বিপক্ষে শক্তিশালী দল হলেও লড়াই যে সহজ ছিল না সেটাই শনিবার (৪ জুলাই) খুব ভাল করে বুঝেছে আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে মেসির দল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে নামা আফ্রিকান দলটি বুঝিয়ে দিয়েছে তারা নতুন হলেও লড়াইয়ের ময়দান কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।
তবে হাড্ডাহাড্ডি এই খেলা শেষে নিজের সাফল্যের চেয়ে প্রতিপক্ষের লড়াকু মানসিকতার কথাই বেশি বললেন লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দেকে জানালেন কুর্নিশ।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা। এই গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২০ গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। এই নজির গড়েও ম্যাচ শেষে মেসির গলায় ছিল কেপ ভার্দের প্রতি অকুণ্ঠ প্রশংসা। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, 'আমরা জানতাম ম্যাচটা অনেক কঠিন হবে। এই দলটি গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলকে হারতে দেয়নি। প্রথম গোলটি করে আমরা ভেবেছিলাম এরপর হয়তো নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাব এবং কিছুটা স্বস্তিতে খেলতে পারব। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো। ওরা মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিল।' বিশ্বকাপে ছোট দল বলে কিছু নেই। মেসিও সেটাই মনে করিয়ে বলেন, 'নকআউটে কেউ কাউকে কিছু উপহার দেয় না। আমরা সব প্রতিপক্ষকেই সম্মান করি। এখন বিশ্ব ফুটবল অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। আমাদের এখন বিশ্রাম নিতে হবে, সামনে কী আছে সেটা ভাবতে হবে। আমরা অনেক ভালো কিছু করেছি, আবার কিছু ভুলও শুধরে নিতে হবে।' অন্যদিকে নিজের দলের সমালোচনা করেছেন মেসি। বলেছেন, 'আমরা ঠিকমতো প্রেসিং করতে পারিনি। রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি ছিল। খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ও কিছুটা কম ছিল। আর ওরা যেভাবে শারীরিক শক্তি নিয়ে খেলেছে, সেই তীব্রতার সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের কষ্ট হয়েছে।'
আরও পড়ুন: চক্রান্ত করে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ? ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা দায়ের
উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেছিল এবং কেপ ভার্দেকে কোণঠাসা করে ফেলে। খেলার শুরুতে মেসির একটি প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, এরপর তিনি একটি ফ্রি-কিক মারেন যা ভোজিনহা সহজেই ধরে ফেলেন। এছাড়া নাহুয়েল মলিনা এবং এনজো ফার্নান্দেজও ভাল সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলোকে কাজে লাগাতে পারেননি। তবে যাই হোক ম্যাচের ১১১তম মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডটি যদি ডিফেন্ডার বোর্জেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে না জড়াত, তবে হয়তো ম্যাচের শেষ দৃশ্যটাই বদলে যেতে পারত। ৩-২ গোলের এই স্বস্তির জয় না এলে হয়তো শেষ ষোলোতে ওঠাই হতো না লিওনেল মেসির দলের। এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর আগামী ৭ জুলাই শেষ ১৬-র মেগা ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে আফ্রিকার আরেক শক্তিশালী দল মিসর। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে সালাহ-মারমুশদের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি-ডি পলরা।

