নিজস্ব প্রতিনিধি: গরমে ঘাম, বর্ষায় আর্দ্রতা, শীতে শুষ্কতা ঋতু বদলের সঙ্গে ত্বকের সমস্যাও পাল্টে যায়। তাই সারা বছর একই স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ না করে ঋতু ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং স্কিন ব্যারিয়ারকে সুরক্ষিত রাখাই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের মূল চাবিকাঠি।
স্বাস্থ্যকর, সতেজ ও প্রাণবন্ত ত্বক মানেই শুধু নানা ধরনের পণ্য ব্যবহার করা নয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের প্রকৃত চাহিদা কী, তা জানাটাই আসল। মৃদুভাবে পরিষ্কার করা, আর্দ্রতা জোগানো এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার মতো সাধারণ পরিচর্যার মাধ্যমেও সারা বছর ত্বককে সতেজ, প্রাণবন্ত, ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়েশ্চারাইজেশন ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে হাইড্রেশন ত্বকের জলের পরিমাণ বজায় রাখে। ত্বক তৈলাক্ত দেখালেও, আসলে তা ডিহাইড্রেশনের কারণে হতে পারে, আর এই কারণেই সব ধরনের ত্বকের জন্য হাইড্রেশন অপরিহার্য। ঋতু পরিবর্তনের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যার ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয় এবং ত্বকের সুরক্ষাপ্রাচীর ভেঙে যায়, যা ত্বককে ক্লান্ত, শুষ্ক এবং অনুজ্জ্বল করে তোলে। প্রাথমিকভাবে মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট না করেই ময়লা পরিষ্কার করে। মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন। শুধু শীতকাল নয়, গরম ও বর্ষাতেও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও জরুরি। আকাশ মেঘলা থাকলেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে অন্তত SPF 30 বা তার বেশি সানস্ক্রিন লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ত্বককে ভিতর থেকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন বা সেরামাইডযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা কমায়। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রতিটি বিউটি ট্রেন্ড অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। ধরন বুঝে নিয়মিত ও সহজ স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

