নিজস্ব প্রতিনিধি: নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। ধূপগুড়ি থানার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মৃতার পরিবার। অভিযোগ, তরুণী নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় মিসিং ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন তাঁরা, কিন্তু পুলিশ তাঁদের ফিরিয়ে দেয়।
তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সূত্রের খবর, ধূপগুড়ি মাগুরমারি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঙাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন মৃত তরুণী রঞ্জিতা রায়। বয়স ২২ বছর।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন রঞ্জিতা। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পরেও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর। কিন্তু পরিবারের বক্তব্য, এরপর থেকেই মেয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর পরিবার। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও রঞ্জিতা বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন তাঁর পরিবার। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু তাঁকে না পাওয়ায় শেষমেষ ধূপগুড়ি থানায় দ্বারস্থ হন তরুণীর পরিবার। মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করতে চান তাঁরা। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ গ্রহণ করেননি। তাঁরা জানায়, চব্বিশ ঘন্টা না কাটলে কোনও মিসিং ডায়েরি নেওয়া হবে না। নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে আসে তরুণীর পরিবার। এর কয়েক ঘন্টা পর বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ধূপগুড়ির গিলান্ডি সেতু সংলগ্ন এলাকার একটি ক্লাবঘরের ভিতরে এক তরুণীকে ঝুলতে দেখতে পান এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দেহটি রঞ্জিতার বলে শনাক্ত করেন। এখন তরুণীর মৃতদেহ ময়নাতদন্ত পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, তরুণী বিবাহিত, তাঁর সাত মাসের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোকে ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। মৃতার স্বামী তপু রায়ের অভিযোগ, সময়মতো মিসিং ডায়েরি গ্রহণ করে পুলিশ বিষয়টা দেখলে হয়তো এরকম ঘটনা ঘটত না। তবে এমন অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তরুণীর মৃত্যু হল, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

