Dailyhunt
চাকরি না পেয়ে আমেরিকায় আত্মঘাতী ভারতীয় তরুণ, অন্ধ্রে ছেলের দেহের অপেক্ষায় ঋণগ্রস্ত বাবা

চাকরি না পেয়ে আমেরিকায় আত্মঘাতী ভারতীয় তরুণ, অন্ধ্রে ছেলের দেহের অপেক্ষায় ঋণগ্রস্ত বাবা

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিটি বাবা-মা'য়ের স্বপ্ন থাকে সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করবেন। সন্তানের ইচ্ছা পূরণ করতে কত কিছুই ত্যাগ করেন অভিভাবকরা। যদি আবার সন্তানের বিদেশে পড়াশোনার করার ইচ্ছা থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই। কষ্ট হলেও নিজেদের সবকিছু দিয়েই সন্তানকে বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠান অনেকেই।

কিন্তু সেই ছেলে যদি আত্মহত্যা করে তাহলে বাবা-মা’য়ের ঠিক কি অবস্থা হয় তা বোঝার মতো ক্ষমতা বোধহয় সাধারণ মানুষের নেই। ঠিক তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। আমেরিকায়। সেখানে আত্মঘাতী হয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের ২৬ বছর বয়সী এক যুবক। এই খবর পাওয়ার পরেই অন্ধ্রপ্রদেশে যুবকের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মৃত যুবককে ইরাগনাবয়িনা চান্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চান্দু সম্প্রতি শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটি থেকে তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন । তিনি মূলত কুরনুল জেলার বাসিন্দা ছিলেন। এবিপি নিউজের তথ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চান্দু চাকরি খোঁজা নিয়ে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন এবং পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কারণে তিনি গভীর মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি তাঁর বাবার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র ও তাঁর কাছের লোকজন এমনটাই জানিয়েছেন। বর্তমানে কুর্নুলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমেরিকায় বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা চান্দুর মরদেহ দেশে ফেরাতে তাঁর পরিবারকে সহায়তা জন্য ১,২০,০০০ ডলার (১ কোটি ১৩ লক্ষ ৮১ হাজার ২৫৬ টাকা) সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একটি তহবিল গড়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৬০,০০০ ডলার সংগৃহীত হয়েছে।

আরও পড়ুন: উজ্জয়নের মহাকাল মন্দির চত্বর খুঁড়তেই মিলল একবিংশ শতাব্দীর বিশাল শিবলিঙ্গ

চন্দু হায়দরাবাদের সিএমআর কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বি.টেক ডিগ্রি নিয়ে পরবর্তীতে আমেরিকায় স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করতে যান। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সেই পড়াশোনা শেষ হয়। বর্তমানে ছেলের দেহ ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ঋনে জর্জরিত চান্দুর পরিবার। জানা গিয়েছে, চান্দুর বাবা পেশায় একজন নিরাপত্তারক্ষী। চান্দুকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী সাহায্য চেয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী নারা লোকেশকে চিঠি লেখেন। পোস্টটি দেখেই লোকেশ শোক প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গেই তিনি কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী রামমোহন নাইডুকে ‘মৃতদেহটির নির্বিঘ্নে’ দেশে ফেরাতে অনুরোধ করেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ei Muhurte