নিজস্ব প্রতিনিধি: নিরাপদ যাত্রার উদ্দেশ্যে রাইড বুক করাই কি তবে কাল হল? রাতের জাতীয় সড়কে চলন্ত অটোর ভেতরেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন এক মহিলা যাত্রী। চালকের বিকৃতি আচরণের শিকার হয়ে প্রতিটা মুহূর্ত প্রাণভয়ে কাটাচ্ছিল ওই যাত্রী। নিজের অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।
মহিলার দাবি, রবিবার রাত প্রায় ৮টা ৪৮ মিনিটে তিনি র্যাপিডো অ্যাপের মাধ্যমে একটি অটো বুক করেন। যাত্রাপথে একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে পাশ দিয়ে যাওয়া এক মহিলা বাইক আরোহী তাঁকে ইশারায় জানান, চালক মোবাইলে আপত্তিকর ভিডিও দেখছেন। অভিযোগ, বিষয়টি টের পেতেই চালক দ্রুত ফোনটি লুকিয়ে ফেলেন। এরপর অটোর পিছনের আসনে বসে থাকা ওই যাত্রী লক্ষ্য করেন, চালক অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তাঁর অভিযোগ, চালক জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং অশালীনভাবে নিজের শরীর স্পর্শ করছিলেন। তখনও গন্তব্যে পৌঁছতে প্রায় আধঘণ্টা বাকি ছিল। নির্জন রাস্তা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি মাঝপথে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি নেননি।
আরও পড়ুন: মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্থার মামলায় বেকসুর খালাস ব্রিজভূষণ
মহিলা জানান, চলন্ত অটো থেকেই তিনি র্যাপিডোর সেফটি টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের আশঙ্কার কথা জানান। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, চালক গাড়ি চালানোর সময় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট দেখছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছে তিনি চালকের মুখোমুখি হলে, চালক অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, তিনি নাকি ‘শুধু ছোট পোশাক পরা মহিলাদের বিদেশি ভিডিও’ দেখছিলেন। ঘটনার পর র্যাপিডোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই যাত্রী। তাঁর অভিযোগ, অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরেও সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও ফলো-আপ যোগাযোগ করা হয়নি। নিজের পোস্টে তিনি সেই অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা বাইক আরোহীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যিনি সময়মতো সতর্ক করে সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করেছিলেন। ভিডিওতে অভিযুক্ত অটোচালকের নাম ছোটুলাল কুমার যাদব। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপের সরকারি নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। একইসঙ্গে, অভিযোগের বিষয়ে র্যাপিডোর তরফেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
