নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ছয় বছর আগে ২০২০ সালে দিল্লি দাঙ্গার সময় দাঙ্গাকারীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (আইবি) আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ পাঁচ দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল দিল্লির কড়কড়ডুমা আদালত।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সাজা ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক বলেন, 'অঙ্কিত শর্মাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তা ছিল চরম নৃশংস। খুন করেই বর্বরতা শেষ হয়নি। অঙ্কিতের দেহটি কাছের একটি নর্দমায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেন ঘৃণা তখনও মেটেনি। এই অপরাধ বিরলতম অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। যা সমস্ত ভয়াবহতাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।'
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলন ঘিরে ২০২০ সালে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বাংশ। দুই ধর্মীয় গোষ্ঠীর সংঘর্ষে একাধিক যানবাহন-দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাণ হারান ৫৩ জন। বহু মানুষ ভিটেমাটি হারান। ওই দাঙ্গা চলার সময়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি খুন হন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (আইবি) আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা। ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির এক নালা থেকে উদ্ধার হয় অঙ্কিতের রক্তাক্ত দেহ। এর পর দয়ালপুর থানায় ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মামলা দায়ের করেন অঙ্কিতের বাবা রবিন্দর কুমার। ময়নাতদন্তে উঠে আসে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছেন অঙ্কিত। তাঁর সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের ৫১টি আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথা, শরীর, বুক এবং কোমরে গভীর ক্ষতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন ময়নাতদন্তের চিকিৎসকরা। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দিল্লি পুলিশ।
গত ১৩ জুলাই মামলায় প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা আম আদমি পার্টির নেতা তাহির হুসেন সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন কড়কড়ডুমা আদালতের বিচারক। তাহির ছাড়া বাকিরা হলেন-জাভেদ, আনাস, নাজিম ও কাশিম। অভিযুক্ত বাকি ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়। দোষী সাব্যস্ত করার ১৮ দিন বাদে রায় ঘোষণা হল।

