নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় অজান্তেই নান, সিঙাড়া, বিস্কুট, সাদা পাউরুটি, পিৎজা বা কেকের মতো জনপ্রিয় খাবারের মাধ্যমে ঢুকে পড়ছে ময়দা। স্বাদে মন ভোলালেও, এই পরিশোধিত ময়দা শরীরের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন পুষ্টিবিদরা। পুষ্টিবিদরা বলছেন মাত্র ১৪ দিনের জন্য ময়দা বাদ দিলেই শরীরে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ময়দা তৈরির সময় গমের ব্র্যান ও জার্ম অংশ সরিয়ে ফেলা হয়।
ফলে এতে থাকে মূলত পরিশোধিত স্টার্চ, কিন্তু প্রায় থাকে না কোনও ফাইবার বা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
নিয়মিত ময়দা খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা, হজমের সমস্যা এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যায়।ময়দা খুব দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, আবার দ্রুত কমিয়েও ফেলে। এর ফলে ক্লান্তি ও এনার্জির ঘাটতি দেখা যায়। ময়দা বাদ দিলে এই ওঠানামা কমে এবং শরীরে শক্তি স্থিতিশীল থাকে। ময়দায় ফাইবার না থাকায় হজমের সমস্যা বাড়ে। এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ শস্য বা কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং গাট মাইক্রোবায়োম উন্নত হয়।ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে পারে না। ফলে বারবার খিদে পায়। কিন্তু হোল ফুড খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং কমে। পরিশোধিত খাবার বেশি খাওয়ার প্রবণতা থাকে। ময়দা কমালে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালোরি গ্রহণ কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ময়দার বদলে সম্পূর্ণ শস্য খেলে শরীরে ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বাড়ে, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য জরুরি।পুষ্টিবিদদের মতে, মাত্র দুই সপ্তাহ ময়দা বাদ দিলেই শরীরে এনার্জি বাড়ে, পেট ফাঁপার সমস্যা কমে এবং খিদে নিয়ন্ত্রণে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ঘুম ও ত্বকের ওপরও। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে চরম ডায়েট নয়, বরং ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় ফল দিতে পারে। তাই ধীরে ধীরে ময়দার বদলে পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ানোই হতে পারে স্বাস্থ্যকর জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।

