নিজস্ব প্রতিনিধি: রাস্তায় হাজারো মানুষের ভিড়, চারদিকে অফিসযাত্রীদের ব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহল! সবকিছু মিলিয়ে শহর যেন কখনও থেমে থাকে না। তবুও দিনের শেষে অনেকেই ফিরে যান এমন এক ঘরে, যেখানে অপেক্ষা করে থাকে শুধু নীরবতা। না থাকে কথা বলার কেউ, না থাকে অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার সঙ্গী।
আধুনিক জীবনের এই নিঃশব্দ একাকিত্ব ধীরে ধীরে বহু মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একা থাকা এবং একাকিত্ব এক জিনিস নয়। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, একা থাকা অনেক সময় স্বাধীনতা এনে দেয়, কিন্তু একাকিত্ব হলো সেই মানসিক অবস্থা যখন মানুষ সম্পর্কের অভাব অনুভব করে, এমনকি চারপাশে মানুষে ভরা থাকলেও। এটি এক ধরনের গভীর শূন্যতা, যা সহজে পূরণ করা যায় না।
আরও পড়ুন: বাজার নয়, ভরসা হোক রান্নাঘর, জেনে নিন ঘরেই দই তৈরির সহজ কৌশল
বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনযাপন, প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতা সব মিলিয়ে একাকিত্ব যেন নীরব মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কাজের চাপে, কেউ সম্পর্ক ভাঙার কষ্টে, আবার কেউ পারিবারিক দূরত্বে একা হয়ে পড়ছেন। World Health Organization-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ একাকিত্বে ভোগেন, আর নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই হার আরও বেশি। একাকিত্ব শুধু মানসিক কষ্টই নয়, শারীরিক ঝুঁকিও বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন একা থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ডায়াবেটিসের মতো রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পাশাপাশি বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। অনেকেই বাস্তব সম্পর্কের বদলে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটান, যা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
তবে সব একা থাকা খারাপ নয়। নিজের ইচ্ছায় একা থাকলে মানুষ নতুন কিছু শিখতে পারে, সৃজনশীলতা বাড়াতে পারে এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে। কিন্তু যখন একাকিত্ব মানসিক চাপ তৈরি করে, তখন তা মোকাবিলা করা জরুরি। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন সম্পর্ক গড়ে তোলা, বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। নিয়মিত ব্যায়াম, নতুন কিছু শেখা বা সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়াও সাহায্য করতে পারে।

