নিজস্ব প্রতিনিধি: SIR-এর ফলে ভোটার লিস্টে নাম বাদ যাওয়া কোনও ব্যক্তিরই রেশন বন্ধ করা যাবে না। আজ, শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বর্তমানে এসআইআরে-এর ফলে যাদের ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ গিয়েছে, তাদের কোনও সরকারি প্রকল্প আপাতত দেওয়া হচ্ছে না। কারণ তাদের ভোটার হিসেবে বিবেচনা করতে অসুবিধা হচ্ছে রাজ্যের।
এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তাই অন্নপূর্ণা যোজনা, রেশন সবই বন্ধ রয়েছে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ যাওয়া উপভোক্তাদের। তেমনই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চে মামলা হয়। মামলাকারীর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারপরেই রেশন দোকান থেকে তাঁকে জানানো হয়, রেশনের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। এই আশঙ্কা থেকেই তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য জানান, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া যে সমস্ত ব্যক্তির রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে তাঁদের রেশন চালু করতে হবে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই ওই ব্যক্তি সরকারি রেশন পাওয়ার অযোগ্য হয়ে যান না। নাগরিকের খাদ্য নিরাপত্তার অধিকার ও এসআইআরের সঙ্গে ভোটাধিকারের সরাসরি সম্পর্ক নেই। আদালত জানায়, এই বিষয়টি আরও বৃহত্তর পরিসরে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। ভোটার তালিকা ও রেশন ব্যবস্থা দু'টি সম্পূর্ণ আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তাই মামলাকারী কেন, কোনও উপভোক্তা যার নাম ভোটার তালিকা থেকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে তাদের রেশন বন্ধ করা যাবে না।
আরও পডুন: দত্তপুকুরে গেঞ্জি কারখানায় বয়লার ফেটে বিস্ফোরণে নিহত ১, আটক মালিক
এই একই বিষয়ে একটি মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। এক মামলাকারী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে আর্জি জানান, এসআইআরে নাম বাদ গেলে যেন কোনও সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না করা হয়। সেই বিষয়ে ওই মামলাকারীকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি জানিয়েছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব ঠিক করার কেউ নন। এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেও সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা যায় কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’

