আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে কয়েকটি ঘাঁটির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলাগুলো শুধু সামরিক অবকাঠামো নয়, বরং আমেরিকার কৌশলগত অবস্থানকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বহু ঘাঁটিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: চার পায়ে হাঁটছে 'এলন মাস্ক' সহ বিশ্বের ধনকুবেররা, বার্লিনে প্রযুক্তির চমকে হতবাক সবাই
প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিভিন্ন স্যাটেলাইট ছবি, সামরিক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে, কিছু স্থাপনায় এতটাই ক্ষতি হয়েছে যে সেগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করতে অনেক সময় লাগতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থাপনা পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ ও সময় প্রয়োজন হবে।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ব্যয়ের অঙ্ক কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু আমেরিকা নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যেও নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

