নিজস্ব প্রতিনিধি: দাবদাহে নাজেহাল মানুষ। ঘর থেকে বেরোলেই হাঁসফাঁস অবস্থা। তবে শুধু মানুষই নয়, এই তীব্র গরমে কষ্ট পাচ্ছে বাড়ির পোষ্যরাও। মুখে বলতে না পারলেও কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য চারপেয়েদের অস্বস্তি কিন্তু কম নয়। তাই শুধু বেশি করে জল দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়, এই সময় তাদের খাবারের তালিকাতেও আনতে হবে বিশেষ পরিবর্তন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে পোষ্যদের এমন খাবার দিতে হবে যা শরীর ঠান্ডা রাখবে, সহজে হজম হবে এবং জলশূন্যতা কমাবে। তাই এই সময় মেনুতে কী কী রাখা উচিত, জেনে নিন বিস্তারিত। গরমে অনেক বাড়িতেই পোষ্যের জন্য সেদ্ধ চিকেন দেওয়া হয়। প্রোটিনের জন্য চিকেন ভালো হলেও প্রচণ্ড গরমে মাঝে মাঝে তার বদলে মাছ, হাঁস বা খরগোশের মাংস দিতে পারেন। এতে খাবারে বৈচিত্র্যও আসবে, আবার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও মিলবে। অবশ্যই ভালোভাবে সেদ্ধ করে এবং হাড় ছাড়িয়ে দিতে হবে।
শরীর ঠান্ডা রাখতে শসা ও স্কোয়াশ খুবই উপকারী। এই খাবারগুলিতে জলের পরিমাণ বেশি থাকে এবং সহজে হজম হয়। তাই অল্প পরিমাণে কেটে পোষ্যকে দিতে পারেন। তবে আগে দেখে নিন, ওই খাবারে কোনও অ্যালার্জি হচ্ছে কি না। দুপুরে পোষ্যকে অল্প পরিমাণে দই-ভাতও দিতে পারেন। শুধু দইও দেওয়া যায়। দই শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তবে অনেক পোষ্যের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই প্রথমে অল্প পরিমাণে দিয়ে দেখে নেওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন: চেনা বেগুন এবার অন্য রূপে, দই মিশিয়ে বানান সুস্বাদু বেগুন বাহার
অনেক পোষ্য ফল খেতে ভালোবাসে। গরমে তাদের তরমুজ দিতে পারেন, তবে অবশ্যই বীজ ছাড়িয়ে। এছাড়াও অল্প পরিমাণে আপেলও দেওয়া যেতে পারে। এতে শরীরে জলের ঘাটতি কিছুটা কমবে।এই সময় চেষ্টা করুন ভাতের পরিমাণ কমাতে। তার বদলে বার্লি বা মিলেট দিতে পারেন। এগুলি হালকা, পুষ্টিকর এবং সহজপাচ্য।মৌরিও গরমে পোষ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। ১ কাপ ফুটন্ত জলে ১ চা চামচ মৌরি দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা করুন। তারপর সেই জল ছেঁকে অল্প অল্প করে দিতে পারেন। ছোট কুকুরকে দিনে ১ চামচ, মাঝারি কুকুরকে ২ থেকে ৩ চামচ এবং বড় কুকুরকে ৪ থেকে ৫ চামচ পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু খাবার নয়, সব সময় পরিষ্কার জল রাখতে হবে। দুপুরের কড়া রোদে বাইরে নিয়ে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। যদি অতিরিক্ত হাঁপানো, বমি, দুর্বলতা বা খাওয়া বন্ধ করার মতো লক্ষণ দেখা যায়, দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।গরমে সামান্য যত্নই আপনার প্রিয় পোষ্যকে বড় স্বস্তি দিতে পারে। তাই এই সময় খাবারে বদল এনে তাদের সুস্থ ও আরামদায়ক রাখুন।

