নিজস্ব প্রতিনিধি: গরম পড়তেই শরবত, লস্যি, লেবুর জল বা ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বাড়ে ঘরে ঘরে। তবে এবার সেই শরবত গুলিতে চিনির বদলে জায়গা করে নিচ্ছে মধু। স্বাস্থ্য সচেতনতার বাড়বাড়ন্তে বহু ভারতীয় এখন পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে প্রাকৃতিক মধুকেই বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে মধু কি সত্যিই চিনির চেয়ে স্বাস্থ্যকর?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর ‘হ্যাঁ’, তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিশোধিত সাদা চিনি শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি, ওজন বাড়ানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ানোর মতো সমস্যার জন্য দায়ী। অন্যদিকে, কাঁচা মধুতে থাকে প্রাকৃতিক এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী। কাঁচা মধু সরাসরি মৌচাক থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং এতে অতিরিক্ত তাপ বা প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয় না, ফলে এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
আরও পড়ুন:১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ হতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়া
এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, কাঁচা মধু একটি তুলনামূলক লো-গ্লাইসেমিক বিকল্প, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় না। গরমকালে এটি শরীরকে সতেজ রাখতে, হজমশক্তি উন্নত করতে এবং কিছু সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন-মধু স্বাস্থ্যকর হলেও এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক চিনি এবং এতে ক্যালোরি কম নয়। অতিরিক্ত মধু খেলে ওজন বাড়া বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে বুঝবেন মধু খাঁটি কি না?
খাঁটি মধু চেনার জন্য কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে-জলে দিলে আসল মধু নিচে বসে যায়, টিস্যুতে দিলে সহজে চুইয়ে পড়ে না, আর দেশলাই কাঠিতে লাগিয়ে জ্বালালে খাঁটি মধু থাকলে কাঠি জ্বলে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা ও বিশুদ্ধ মধু যদি সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয়, তবে তা শুধু চিনির বিকল্প নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেরও অংশ হতে পারে।

