নিজস্ব প্রতিনিধিঃবাইরে থেকে দেখলে একেবারে সাধারণ গ্রামের বাড়ি। ঘরের কোণে রাখা কাপড়ের আলমারি দেখেও সন্দেহ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সেই আলমারির আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক গোপন পথ। ওই গোপন পথ সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছিল মাটির নিচের গোপন ঘরে। আর সেখানেই চলছিল অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা। উত্তরপ্রদেশের মেরঠে পুলিশের অভিযানে সামনে এল চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা।
যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মেরঠের ইঞ্চৌলি থানার অন্তর্গত খরদৌনি গ্রামে গভীর রাতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে একটি বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তল্লাশি চালাতে গিয়ে ঘরের আলমারির নীচে লুকোনো একটি গোপন দরজার সন্ধান মেলে। সেই পথ ধরে পৌঁছনো যায় একটি গোপন বেসমেন্টে, যেখানে রমরমিয়ে চলছিল বেআইনি অস্ত্র তৈরির কাজ। অভিযানে মূল অভিযুক্ত ইমরান-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে কুলদীপ, নরেন্দ্র এবং ১৯ বছরের উমঙ্গ ঠাকুর ওরফে দেব, যে নিজেকে বিসিএ-র ছাত্র বলে পরিচয় দিত। পুলিশের দাবি, এই চক্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল।
আরও পড়ুনঃ১৫ টাকার কলা কিনতে গিয়ে দিলেন ১৫১৫ টাকা! সততার নজির গড়লেন ফল বিক্রেতা
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি তৈরি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। তদন্তকারীদের অনুমান, বহু জেলায় এই অস্ত্র পাচার করা হত। এসপি অভিজিৎ কুমার জানান, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে গোপনে এই চক্র নিজেদের নেটওয়ার্ক চালাত। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, পৃথক আরেক অভিযানে মেরঠ কোতোয়ালি পুলিশ দুই অস্ত্র পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছে একাধিক অবৈধ পিস্তল ও দেশি বন্দুক। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এখন এই চক্রের আরও বড় যোগসূত্র খুঁজে দেখছে।

