নিজস্ব প্রতিনিধিঃ হাড়ের সুস্থতার ওপর আমাদের পুরো শরীরের কাঠামো এবং গতিশীলতা নির্ভর করে। হাড়ের শক্তি বা ঘনত্ব বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল খাদ্যভ্যাস অসময়েই হাড় ক্ষয়ের (অস্টিওপোরোসিস) এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং প্রোটিনের মতো জরুরি পুষ্টির অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার নিয়মিত খেলেও এই উপাদানগুলি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতেই দেয় না।
কোল্ড ড্রিঙ্কস বা সোডা: অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিঙ্কস বা সোডা হাড়ের প্রধান শত্রু। এতে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।
অতিরিক্ত নুন (সোডিয়াম): খাবারে নুনের পরিমাণ বেশি হলে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। ফলে হাড় তার স্বাভাবিক ঘনত্ব হারাতে শুরু করে।
চা, কফি ও এনার্জি ড্রিঙ্কস: ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যাওয়ার হার বাড়ে এবং নতুন করে ক্যালসিয়াম শোষণ বাধাগ্রস্ত হয়।
অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি: চিনিজাতীয় খাবার শরীরে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ তৈরি করে। এটি হাড়ের কোষের মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রক্রিয়াজাত মিষ্টির বদলে তাই ফল খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।
মদ বা অ্যালকোহল: অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে শরীরের সার্বিক ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এটি শরীরে নতুন হাড় তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত রেড মিট: রেড মিট প্রোটিন ও আয়রনের ভাল উৎস হলেও, অতিরিক্ত মাত্রায় রেড মিট (বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস) খেলে হাড়ের ভেতরের শক্তি দ্রুত কমতে থাকে।
হাই-ফ্যাট ডেয়ারি প্রোডাক্ট: দুগ্ধজাত খাবার হাড়ের জন্য ভাল হলেও, অতিরিক্ত ফ্যাট বা মাখনযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বাড়ায়। এই অতিরিক্ত ফ্যাট হাড়ের গঠনকে দুর্বল করে দেয়। হাড় সুস্থ রাখতে এই ৭টি খাবার নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। কোল্ড ড্রিঙ্কস বা কফির বদলে জল ও হার্বাল টি পানের অভ্যাস গড়ুন।

