নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অনেক সময় শরীরে ছোটখাটো পরিবর্তন দেখা দিলে মহিলারা তা স্ট্রেস, বয়স বাড়া কিংবা হরমোনের ওঠানামার ফল বলে ধরে নেন। কিন্তু ঘাড়ে সামান্য ফোলা, গলার স্বর বদলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা খাবার গিলতে অস্বস্তির মতো লক্ষণ বারবার দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের পরিবর্তন কখনও কখনও থাইরয়েডের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘাড়ের কোন লক্ষণগুলি নজরে রাখবেন?
থাইরয়েড গলার সামনের দিকে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই থাইরয়েডে সমস্যা হলে শুধু ঘাড়ে ফোলা নয়, শরীরের বিভিন্ন অংশেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাড়ের সামনের দিকে কোনও লাম্প, ফোলা বা অস্বাভাবিক ভারীভাব দেখা গেলে তা নজরে রাখা জরুরি। খাবার বা জল গিলতে অসুবিধা, গলায় চাপ বা টান অনুভূত হওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে গলার স্বর বদলে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
কেন মহিলাদের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া জরুরি?
থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যা মহিলাদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে ২০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে এর প্রবণতা উল্লেখযোগ্য। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পরের সময় এবং মেনোপজের মতো পর্যায়েও শরীরে বড় ধরনের হরমোনাল পরিবর্তন হয়, যা থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস, ঘাড় বা মাথায় আগের রেডিয়েশন চিকিৎসা এবং কিছু অটোইমিউন রোগও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
থাইরয়েডের সমস্যা সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রথমে ঘাড় পরীক্ষা করতে পারেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা দেখা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শও দেওয়া হতে পারে। এই পরীক্ষা সাধারণত ব্যথাহীন এবং অল্প সময়েই করা যায়। কোনও নডিউলকে আরও বিশদে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ফাইন-নিডল বায়োপসি করার পরামর্শ দিতে পারেন।

