নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে ব্রিটেনে এসেছিলেন পাকিস্তানের তরুণ বক্সার কুদরতউল্লাহ। গেমস শেষের পরে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা যখন দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সবার নজরে পড়ল, উধাও কুদরতউল্লাহ। হোটেলের রুমে পড়ে রয়েছে শুধু তাঁর পোশাক। ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কোথায় গেলেন তরুণ বক্সার? পাকিস্তানি দলের বাকি খেলোয়াড়দের ধারনা, ব্রিটেনেই রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন কুদরত। এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক প্রতিযোগিতা শেষে পাক খেলোয়াড়দের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার নজির রয়েছে।
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ৩৬ পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু একটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দলকে। আর ওই ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন মহিলা বক্সার ফাতিমা জোহরা। কোয়েটা প্রদেশের বাসিন্দা কুদরতউল্লাহ কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের বক্সিং দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। রবিবার (২ অগস্ট) দুপুরেও তাঁকে পাকিস্তানি টিম যে হোটেলে উঠেছিল, সেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। বেলা দুটোর পর আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁর পাসপোর্টও পাকিস্তান টিমের ম্যানেজারের কাছে জমা ছিল। কমনওয়েলথ গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠান শেষে যখন দেশের উদ্দেশে পাকিস্তান টিমের রওনা হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তখনই কুদরতউল্লাহের 'নিখোঁজ' হওয়ার বিষয়টি সবার নজরে পড়ে। হোটেলের রুমে গিয়ে দেখা যায়, কুদরতের জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে।
এই প্রথম নয়, এর আগে ২০২২ সালে বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসের সময়ও পাকিস্তানের দুই জাতীয় বক্সার সুলেমান বালোচ ও নাজিরুল্লাহ খান নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়েও দুজনের পাসপোর্ট দলের প্রধানের কাছেই ছিল। এর দুই বছর বাদে ২০২৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অলিম্পিক বাছাইপর্বের সময় এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী বক্সার জোহাইব রাশিদ তাঁর রুমমেটের বৈদেশিক মুদ্রা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে বুস্তো আরসিজিও শহর থেকে উধাও হয়ে যান।

