আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের হরমোজগান প্রদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় একটি আবাসিক বাড়ির কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠল। হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক এলাকায় এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে তারা।
রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত ও ছিটকে আসা ধাতব টুকরোয় বাড়িটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর প্রথমে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে দুজনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে পৌঁছয়।
হামলার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের বের করে আনা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিয়োতে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি দেখা গিয়েছে। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর। তাঁর অভিযোগ, এই হামলা কার্যত 'যুদ্ধাপরাধ'। তবে মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় ঠিক কোন লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কুহেস্তাক এলাকা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটির কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নতুন এই হামলার অভিযোগ সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টা হামলা এবং কড়া হুঁশিয়ারির মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এসেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডসের হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সমুদ্রপথে মাইন পাতা এবং জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসও আমেরিকাকে আরও হামলা চালানো হলে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সামরিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

