আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে বিরাট বড় ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকান সেনা সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ড্যান ড্রিসকল। প্রায় ১৮ মাস এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পর তাঁর পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। তবে ঠিক কী কারণে তিনি পদ ছাড়লেন, তা স্পষ্ট করেনি মার্কিন প্রশাসন।
তবে ড্রিসকলের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দীর্ঘদিনের মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, মার্কিন সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আধুনিকীকরণ এবং শীর্ষস্তরের নেতৃত্বে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে দু'জনের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। পদত্যাগের আগে ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। ড্রিসকলের পদত্যাগের আগে মার্কিন সেনাবাহিনীতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আর্মির শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ড্রিসকলের সঙ্গে জর্জের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এরপর জুনে ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুকেও পদ থেকে সরানো হয়। ফলে ড্রিসকলের পদত্যাগকে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নেতৃত্বে চলতে থাকা বড়সড় রদবদলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ড্রিসকল ছিলেন ইরাক যুদ্ধের প্রাক্তন সেনা, প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রাক্তন উপদেষ্টা। আর্মি সেক্রেটারি হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণে জোর দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য ড্রিসকলের কাজের প্রশংসা করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, সেনাবাহিনীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের প্রচেষ্টায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
.

