নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে মুক্তি। ১৩ বছর পর জেলমুক্তি হচ্ছে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের। রাজ্য পুলিশের দুটি মামলাতেও তাঁর জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার জামিন মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ, বুধবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
এই রায়ের পর জেল থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে সুদীপ্ত সেনের আর কোনও আইনি বাধা রইল না। সব ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন সুদীপ্ত সেন। ১২ বছর ১১ মাস জেলে আছেন তিনি। এখন প্রেসিডেন্সি জেলে আছেন সারদা কর্তা। কাকতালীয় ভাবে কদিন পরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সারদাকর্তার মুক্তি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিকে ইতিমধ্যেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন রাকেশ সিং। আজ বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। সেখানে সারদা কর্তাও মুক্তি পাচ্ছেন। তবে তিনি কোনও কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হবেন কিনা সেটা জানা যায়নি। তাই এখন রাজ্য-রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। সিবিআইয়ের হাতে মামলা ছিল ৭৬টি। সে সব মামলায় আগেই জামিন পান সুদীপ্ত সেন। বারাসাতে দু'টি মামলায় জেলবন্দি ছিলেন সারদা কর্তা। এই দুই মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। সারদাকর্তার জামিন মামলায় ভর্ৎসনা করা হয় সিবিআইকে। চিটফান্ড মামলায় বিচারাধীন বন্দি সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন।
অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টে সংশোধনাগার থেকে 'প্রিজনার্স পিটিশন' দাখিল করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। আবেদন তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে কোনও মামলার শুনানি হচ্ছে না। একাধিক আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কিন্তু তাঁকে হাজির করানো হচ্ছে না। হয় তাঁকে 'ভার্চুয়ালি', না হয় 'ফিজিক্যালি' হাজির করানো হোক। আদালতে জামিনের আবেদনও করেন সারদা কর্তা। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, ৩৮৯টি মামলা ছিল সারদার বিরুদ্ধে। তাই ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল সারদাকর্তা গ্রেফতার হন বিধাননগর থানার মামলায়। সিবিআই ৭৬টি মামলা হাতে নেয়। তারা চারটে মামলা দায়ের করে। বাকিগুলিতে রাজ্য পুলিশ চার্জশিট দেয়। ওই চার মামলায় জামিন পান সুদীপ্ত। বেল বন্ড জমা হয়। তবে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার মধ্যে দু'টি আটকে ছিল। বারাসত থানার দু'টি মামলাও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা উঠলে, সবক'টি মামলাতেই জামিন দেওয়া হল সুদীপ্ত সেনকে।
এছাড়া আজ, বুধবার সুদীপ্ত সেনের জামিন মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট। শর্তসাপেক্ষে সারদা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। ২০১৩ সালে সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। এই জেল মুক্তি নিয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, 'কারও জামিন হওয়া বা না হওয়া আইন আদালতের বিষয়। জামিন পাওয়া আইনের মধ্যেই পড়ে। সুদীপ্ত সেন জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেছে। এটা নিয়ে আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা বা মন্তব্যের কিছু নেই।'

