নিজস্ব প্রতিনিধি: নির্বাচন মিটে গিয়েছে। এখন শুধুই ফলাফলের অপেক্ষা। আর তার মধ্যেই কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এখান থেকেই কালীঘাটের সাসপেন্ড হওয়া ওসি গৌতম দাসকে নিয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
শিশু এবং মহিলাদের মেরেছিলেন ওই ওসি বলে বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এমনকী পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে আজ, শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন মমতা-অভিষেক। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইন্টারনাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ২০০ আসন পার করে ক্ষমতায় আসছে। আর তারপরই ৪ মে তারিখের পরে উত্তরপ্রদেশে বা অন্য রাজ্যে পালিয়ে পার পাবেন না পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। সকলকে আদালতে টেনে আনা হবে বলেও জানিয়ে দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মহিলা এবং শিশুদের মেরেছিলেন কালীঘাটের ওসি। শনিবার তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষকরা ভাবছেন, ৪ মে তারিখের পরে উত্তরপ্রদেশ বা যে রাজ্য থেকে এসেছিলেন, সেখানে পালিয়ে যাবেন। তাঁদের প্রত্যেককে আদালতে টেনে আনা হবে অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে বেশ কিছু টেকনিক্যাল বিষয় এজেন্টদের বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূলের সব কাউন্টিং এজেন্ট। সেখানেই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেও গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করা হয়েছিল। সেই নিয়োগের একমাসের মধ্যেই উৎপল ঘোষকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয়েছিল গৌতম দাসকে। শনিবার তাঁকে সাসপেন্ড করে লালবাজার।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে শপথ নেন রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশপ্রধান রাজীব কুমার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হতে চলেছে তখন তিনি দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক। সূত্রের খবর, শনিবারের বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী মমতা এবং অভিষেক বার্তা দিয়ে জানান, ২০০ আসনের উপরে আসনে জিততে চলেছে তৃণমূল। শেয়ার মার্কেটকে চাঙ্গা করতেই বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একই পন্থা নেওয়া হয়েছিল।

