নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ, বুধবার নির্বাচনী জনসভা আরামবাগ থেকে শুরু করলেও পৌঁছে যান বলাগড়ে দ্বিতীয় সভা করতে। আর তারপর তৃতীয় সভাটি করেন শ্রীরামপুর কেন্দ্রে। হুগলি জেলায় অনেক উন্নয়নের কাজ হয়েছে বলে জানিয়ে দেন। এখান থেকেই সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির ধর্ম হচ্ছে বিধর্ম বলে তোপ দাগেন তিনি।
যার সঙ্গে বাংলার হিন্দু ধর্মের কোনও মিল নেই বলে দাবি তাঁর। দুর্গাপুজোয় বাংলায় অনুদান দিলে বিজেপি আদালতে মামলা করে এবং বলে বাংলায় দুর্গাপুজো হয় না। দুর্গাপুজোর কার্নিভাল করার ধারণা তাঁর মাথায় এসে ছিল চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কার্নিভাল দেখেই। এসআইআর নিয়েও তোপ দাগেন তিনি।
এদিকে বিজেপি শুধু মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। এসআইআরের নামে মানুষকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডানলপ-জেসপের জমি অধিগ্রহণ আটকে থাকায় কেন্দ্রকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দাগেন, 'আমরা রাজ্য বিধানসভায় বিল পাশ করেছি অধিগ্রহণ করার জন্য। যাতে এখানে কর্মচারীরা সুরক্ষা পান। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৬ সাল থেকে ফেলে রেখে দিয়েছে। দশ বছর হল। কেন করেনি জানেন? আমি শুনেছি, ওদের মালিক নাকি বিজেপির খুব ক্লোজ। ডানলপ-জেসপের জমি অধিগ্রহণ আটকে রেখেছে। অথচ মুখে বলে শিল্প গড়ে তুলবে। সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।'
অন্যদিকে গ্যাসবেলুন পলিটিক্স তিনি যে করেন না তাও ভরা জনসভা থেকে জানিয়ে দেন। আর বিজেপিকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, 'আপনারা কি জানেন? মাদার টেরেজার যে মিশনারিজ অফ চ্যারিটি করেছেন, সেই মিশনারিজ অফ চ্যারিটিরও ৩০০ জনের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি কল্যাণকে বলছিলাম, দেখে দেখে উকুন বেছেছে বিজেপি। এজেন্সি লাগিয়ে। নিজেদের তো লোক নেই, টাকা আছে। টাকার বড্ড অহংকার। ভারতবর্ষের সব টাকা খেয়ে নিয়েছে। আমি তো বিজেপির মতো গ্যাসবেলুন পলিটিক্স করি না। তাই বেশি বাড়িয়ে বলব না।'
এছাড়া সরাসরি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ট্রাইব্যুনাল গঠন না করে কেমনভাবে প্রথম ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হল? তখন শ্রীরামপুরের সাংসদ জানান, এটা ইচ্ছা করেই করা হয়েছে। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর সপ্তমে তুলে বলেন, 'বাংলাকে বিক্রি করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। যখন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল ট্রাইবুনাল হবে তখন অ্যাডজুডিকেশন কেসে যাদের নাম বাতিল হয়েছে, তারা ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবে। এখন ট্রাইবুনাল কি তৈরি হয়েছে? আমি পরের দিনই বাড়ি দিয়ে দিয়েছি। সেই ট্রাইবুনাল চলাকালীন কেমন করে প্রথম দফার ভোটার লিস্ট ফ্রিজ হয়ে গেল? আমার মাথায় এটা ঢুকছে না। গতকাল রাত পর্যন্ত ট্রাইবুনালের ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্বাচন কমিশন করেনি। সেই কারণে ট্রাইবুনাল এখনও ফাংশন করতে পারছে না।'

