আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শোকে স্তব্ধ ইরান। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরানে নেমেছে জনজোয়ার। দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা এসেছেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে। রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।
দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।
ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার অনুষ্ঠিত বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিক চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান জানান, পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠান নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬ টা থেকে সাধারণ মানুষের জন্য তেহরানের প্রার্থনাস্থলের গেট খুলে দেওয়া হয়। এদিকে, ইরানের শোকানুষ্ঠানের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাগদাদে শোভাযাত্রার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই কর্মসূচির সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা কার্যত বন্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন: পাক উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা বালোচ গোষ্ঠীর, মৃত প্রায় ৩০
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর এটিকে ইরানের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক সমাবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিতা এবং বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতীয় প্রতিনিধিদল প্রয়াত নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। দূতাবাস প্রকাশিত ছবিতে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি মেহবুবা মুফতি, কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি এজেই এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি। এছাড়া রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, বেলারুশ, কিরগিজস্তান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের সংসদীয় প্রতিনিধি, একাধিক বিদেশমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাসচিব এবং আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের অন্তত ৮ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান, ১২ টি দেশের সংসদীয় স্পিকার এবং বহু দেশের মন্ত্রী ও বিশেষ দূত এই শোকানুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, যেসব ইউরোপীয় দেশ সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছে, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সপ্তাহান্ত জুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান চলবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হবে। এরপর মরদেহ কোম, বাগদাদ, কারবালা ও নজফে নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

