নিজস্ব প্রতিনিধিঃ তৃণমূল জমানায় মাসোহারা দিতে বাধ্য করা হত। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই টাকা দেওয়া বন্ধ করতেই মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর হীরালাল বাউরির বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা।
অভিযোগকারী মানিক ধীবর দুর্গাপুরের গান্ধীমোড় সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স চালক। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে মাসোহারা দিতে বাধ্য করা হত। ভয়ের পরিবেশে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে দাবি তাঁর। এমনকি অনলাইনের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠাতেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মানিকের অভিযোগ, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত তিন মাস তিনি আর কোনও টাকা দেননি। এরপরই অভিযুক্ত হীরালাল বাউরি মদ্যপ অবস্থায় তাঁর উপর হামলা চালান। রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং ভবিষ্যতে টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘড়ুইও তাঁকে রক্ষা করতে পারবেন না বলেও ভয় দেখানো হয়েছে বলে দাবি মানিকের। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘড়ুই বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। কোনও ধরনের তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোেগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত হীরালাল বাউরি। তাঁর বক্তব্য, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বচসার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পাশাপাশি, তাঁকে জাতিগতভাবে অপমান করা হয়েছে বলেও পালটা অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

