নিজস্ব প্রতিনিধি, গাজল : পোলাও বা বিরিয়ানি, ভোজ যাই হোক না কেন। শেষ পাতে মিষ্টি না হলে যেন সাধ মেটে না। উৎসবে অনুষ্ঠানে বছরভর বাঙালির মেনুতে মিষ্টির জয়জয়কার। ভোট উৎসবই বা বাদ যায় কেন! আগামী সোমবার প্রকাশিত হতে চলেছে ভোটের ফল। শাসক থেকে বিরোধী সহ সকলের নজর এখন সেইদিকে। ইভিএম সুরক্ষিত রাখতে কড়া নিরাপত্তা রাখা হয়েছে স্ট্রংরুমে।
বাইরে পাহারায় রয়েছেন এজেন্টরাও। এই সময়ে মিষ্টির চাহিদা তুঙ্গে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেই রৈজনৈতিক দলের কর্মীরা বিজয় উৎসব পালন করতে প্রস্তুত। আর উৎসব মানেই মিষ্টিমুখ। ভোটের ফলপ্রকাশের আগে মিষ্টির চাহিদা উঠেছে তুঙ্গে। বিভিন্ন দোকানে দোকানে মিষ্টির অর্ডারও দেওয়া শুরু হয়েছে। চাহিদার সঙ্গে জোগানের সামঞ্জস্য রাখতে বেশি পরিমাণ লাড্ডু এবং রসগোল্লা স্টক রাখতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা।
জানা গিয়েছে, মালদার মঙ্গলবাড়ি, মির্জাপুর, বুলবুলচণ্ডী, সদরঘাট সদর, গাজোল কেন্দ্রে থানা, ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, কদুবাড়ি সহ বিভিন্ন মোড় এলাকায় একাধিক মিষ্টির দোকান রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে সেগুলো যথেষ্ট জনপ্রিয়। কোনও উৎসবের আবহে এই সকল দোকানে আড়াই থেকে ৩ হাজারের বেশই লাড্ডু তৈরি হয়। ভোটও একটা উৎসব। তাই ভোটের ফলপ্রকাশের দিন যাতে মিষ্টি মুখে বাধা না পরে তারজন্য ৫ হাজারের বেশি লাড্ডু তৈরি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। শুধুা লাড্ডুই নয়, অন্যান্য ছানার মিষ্টিও চাহিদা অনুযায়ী বানানো হবে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভোটের ফলপ্রকাশের দিন মিষ্টির অনেক চাহিদা থাকবে। অনেকেই এদিন অনেক মিষ্টি কেনেন। সেই কারণে বাড়তি স্টক রাখার প্রস্তুতি সেরে রাখছে সকলেই। ছানার মিষ্টি ও লাড্ডুর পাশাপাশি এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীকের মিষ্টিও তৈরি করা হয়। তবে মালদায় পর্যাপ্ত কারিগরের অভাব রয়েছে। সেজন্য এবার রাজনৈতিক দলের প্রতীক এবং রং অনুয়ায়ী মিষ্টি তৈরি না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ভোট মরশুমে মিষ্টিও সেজে ওঠে ভোটের রঙে। কাস্তে হাতুরি তারা, পদ্ম, ঘাসফুলে তৈরি হয় মিষ্টি। জিভে জল আনা ক্ষীরের সন্দেশে নিপুন হাতে তুলির টান। কড়াপাকে ঘাসফুল, দুধসাদা ক্ষীরে পদ্মফুল, কারো বা মন মজে লাল কাস্তে- তেরঙা হাতে। এযেন স্বাদে আহ্লাদে ডেজার্টের প্লেটেও ভোটের লড়াই। রাজ্যের বেশ কিছু দোকানে নজর কাড়ে এই ভোট মিষ্টি।

